ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানে নারীর অদৃশ্য শ্রম: ইবাদত ও সংসারের দ্বৈতভার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আত্মশুদ্ধি, সংযম ও খোদাভীতি অর্জনের মাস রমজান। এই পবিত্র মাসে প্রত্যেক বিশ্বাসী মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নিজেদের জীবন নতুন করে সাজান। তবে সমাজের এক বিশাল অংশের জন্য, বিশেষ করে নারীদের জীবনে, রমজান কেবল রোজা পালন বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে ইবাদত, সংসার ব্যবস্থাপনা এবং অদৃশ্য এক নিরলস শ্রমের নীরব মহাযাত্রা, যার শুরু হয় ভোরের বহু আগে আর শেষ হয় গভীর রাতে। এই দীর্ঘ কর্মযজ্ঞে তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রম প্রায়শই থেকে যায় আলোচনার আড়ালে।

ভোরের আগে: দিনের প্রথম দায়িত্ব
নারীর রমজান শুরু হয় সাহরির প্রস্তুতির মাধ্যমে। ফজরের আজানের অনেক আগেই তাদের ঘুম ভাঙে, রান্নাঘরে জ্বলে ওঠে আলো। পরিবারের সবার জন্য সাহরি প্রস্তুত করা, তাদের খাবার পরিবেশন করা এবং সবাই ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করাই তখন মুখ্য হয়ে ওঠে। অনেক সময় দেখা যায়, নারী নিজে সবার শেষে খেতে বসেন, কখনোবা তাড়াহুড়োয় ঠিকমতো খাওয়াই হয় না। তবুও কোনো অভিযোগ নেই; এটি তাদের কাছে দায়িত্ব, আর এই দায়িত্ব পালনের মাঝেই তারা খুঁজে নেন ইবাদতের পবিত্র অনুভব।

ফজরের পর: অপ্রতুল বিশ্রাম
ফজরের নামাজ শেষে অনেক পুরুষ যখন বিশ্রাম বা কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, তখন নারীর জন্য বিশ্রামের ফুরসত ফুরিয়ে আসে। রান্নাঘর গুছানো, এঁটো বাসনপত্র ধোয়া, শিশুদের দিনের জন্য প্রস্তুত করা—এই কাজগুলো দিয়েই শুরু হয় তাদের সকাল। এই সময়টায় নারীর ইচ্ছা থাকে কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত বা দোয়া করার; কিন্তু সংসারের বাস্তবতায় সেই সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ে।

সকাল থেকে দুপুর: নীরব পরিশ্রম
রোজার সকাল ও দুপুর নারীদের জন্য দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। পানিশূন্যতা বা দুর্বলতা সত্ত্বেও ঘরের কাজ থামে না। ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া, শিশুদের পড়াশোনার তদারকি—সবকিছুই চলে নিরবচ্ছিন্নভাবে। এই শ্রম প্রায়শই অদেখা থেকে যায়, কোনো স্বীকৃতিও পায় না। অথচ এই অদৃশ্য পরিশ্রম ছাড়া পরিবারের রমজান মাস নির্বিঘ্নে অতিবাহিত হওয়া অসম্ভব।

দুপুরের পর: ইফতারের ভাবনা
দুপুর গড়ানোর সাথে সাথেই নারীর মনে ইফতার প্রস্তুতির চিন্তা ভর করে। কী রান্না হবে, কী উপকরণ আছে, বাজারে কী কিনতে হবে—এই হিসাব চলতে থাকে অবিরাম। অনেক পরিবারে ইফতার আয়োজনকে সামাজিক মর্যাদা ও যত্নের মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়, যা নারীর ওপর চাপ বাড়ায়। ইফতার যত বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়, তাদের পরিশ্রমও তত বাড়ে। দুঃখজনকভাবে, এই নিরলস শ্রমকে ইবাদতের অংশ হিসেবে খুব কমই বিবেচনা করা হয়। রমজানে নারীর এই অদৃশ্য শ্রম ও আত্মত্যাগ প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়, যা সমাজের সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে নিজ বাড়িতে স্কুলশিক্ষিকাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা

রমজানে নারীর অদৃশ্য শ্রম: ইবাদত ও সংসারের দ্বৈতভার

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আত্মশুদ্ধি, সংযম ও খোদাভীতি অর্জনের মাস রমজান। এই পবিত্র মাসে প্রত্যেক বিশ্বাসী মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নিজেদের জীবন নতুন করে সাজান। তবে সমাজের এক বিশাল অংশের জন্য, বিশেষ করে নারীদের জীবনে, রমজান কেবল রোজা পালন বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে ইবাদত, সংসার ব্যবস্থাপনা এবং অদৃশ্য এক নিরলস শ্রমের নীরব মহাযাত্রা, যার শুরু হয় ভোরের বহু আগে আর শেষ হয় গভীর রাতে। এই দীর্ঘ কর্মযজ্ঞে তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রম প্রায়শই থেকে যায় আলোচনার আড়ালে।

ভোরের আগে: দিনের প্রথম দায়িত্ব
নারীর রমজান শুরু হয় সাহরির প্রস্তুতির মাধ্যমে। ফজরের আজানের অনেক আগেই তাদের ঘুম ভাঙে, রান্নাঘরে জ্বলে ওঠে আলো। পরিবারের সবার জন্য সাহরি প্রস্তুত করা, তাদের খাবার পরিবেশন করা এবং সবাই ঠিকমতো খাচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করাই তখন মুখ্য হয়ে ওঠে। অনেক সময় দেখা যায়, নারী নিজে সবার শেষে খেতে বসেন, কখনোবা তাড়াহুড়োয় ঠিকমতো খাওয়াই হয় না। তবুও কোনো অভিযোগ নেই; এটি তাদের কাছে দায়িত্ব, আর এই দায়িত্ব পালনের মাঝেই তারা খুঁজে নেন ইবাদতের পবিত্র অনুভব।

ফজরের পর: অপ্রতুল বিশ্রাম
ফজরের নামাজ শেষে অনেক পুরুষ যখন বিশ্রাম বা কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, তখন নারীর জন্য বিশ্রামের ফুরসত ফুরিয়ে আসে। রান্নাঘর গুছানো, এঁটো বাসনপত্র ধোয়া, শিশুদের দিনের জন্য প্রস্তুত করা—এই কাজগুলো দিয়েই শুরু হয় তাদের সকাল। এই সময়টায় নারীর ইচ্ছা থাকে কিছুক্ষণ কোরআন তিলাওয়াত বা দোয়া করার; কিন্তু সংসারের বাস্তবতায় সেই সুযোগ খুব সীমিত হয়ে পড়ে।

সকাল থেকে দুপুর: নীরব পরিশ্রম
রোজার সকাল ও দুপুর নারীদের জন্য দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। পানিশূন্যতা বা দুর্বলতা সত্ত্বেও ঘরের কাজ থামে না। ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া, শিশুদের পড়াশোনার তদারকি—সবকিছুই চলে নিরবচ্ছিন্নভাবে। এই শ্রম প্রায়শই অদেখা থেকে যায়, কোনো স্বীকৃতিও পায় না। অথচ এই অদৃশ্য পরিশ্রম ছাড়া পরিবারের রমজান মাস নির্বিঘ্নে অতিবাহিত হওয়া অসম্ভব।

দুপুরের পর: ইফতারের ভাবনা
দুপুর গড়ানোর সাথে সাথেই নারীর মনে ইফতার প্রস্তুতির চিন্তা ভর করে। কী রান্না হবে, কী উপকরণ আছে, বাজারে কী কিনতে হবে—এই হিসাব চলতে থাকে অবিরাম। অনেক পরিবারে ইফতার আয়োজনকে সামাজিক মর্যাদা ও যত্নের মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়, যা নারীর ওপর চাপ বাড়ায়। ইফতার যত বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়, তাদের পরিশ্রমও তত বাড়ে। দুঃখজনকভাবে, এই নিরলস শ্রমকে ইবাদতের অংশ হিসেবে খুব কমই বিবেচনা করা হয়। রমজানে নারীর এই অদৃশ্য শ্রম ও আত্মত্যাগ প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়, যা সমাজের সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।