ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সরকারি দলের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণাকে ‘বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের সূচনা’ বলছে টিআইবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা বর্জনের বিষয়ে সরকারি দলের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। টিআইবি মনে করে, দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। নবনির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রচারণায় জনগণের কাছে যেসব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের প্রধান শর্তই হলো কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি ক্রয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকে যাবে। ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হবে।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে টিআইবি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। সংস্থাটি বলছে, জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী হালনাগাদ করে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। একই নিয়ম রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বর্জনের এই ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনারই প্রতিফলন। তবে এই উদ্যোগের সুফল টেকসই করতে হলে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল’ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটের পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এবং সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় টিআইবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

সরকারি দলের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণাকে ‘বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের সূচনা’ বলছে টিআইবি

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা বর্জনের বিষয়ে সরকারি দলের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। টিআইবি মনে করে, দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। নবনির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রচারণায় জনগণের কাছে যেসব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের প্রধান শর্তই হলো কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি ক্রয় ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং অর্থপাচারের ঝুঁকি থেকে যাবে। ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হবে।

রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে টিআইবি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। সংস্থাটি বলছে, জুলাই সনদের ৭৪ ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী হালনাগাদ করে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। একই নিয়ম রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বর্জনের এই ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনারই প্রতিফলন। তবে এই উদ্যোগের সুফল টেকসই করতে হলে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল’ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে সরকারি জোটের পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এবং সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় টিআইবি।