ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে চলবে পররাষ্ট্র দপ্তর: ফিরছি জিয়াউর রহমানের দর্শনে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন—তাহলো সবার আগে আমাদের দেশ। আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডের মূলমন্ত্র হবে জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না; এটি আমাদের জন্য একটি ‘রেডলাইন’।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছি। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭৮ সালে জাপানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ, দক্ষিণ এশিয়ায় কানেক্টিভিটি বাড়াতে সার্ক প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় আল কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ তার সামর্থ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূমিকা রাখতে পারেনি, এখন সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা আরও জোরদার করা হবে। সংকট সমাধানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তিনি দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

নিজের নিয়োগ ও বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, তারা চাইলে পুনরায় ভোট গণনা করে দেখতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি জানান, কারো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তিনি নিজ থেকে কোনো পদ চেয়ে নেননি।

সবশেষে গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। একটি ভুল তথ্য বা অপপ্রচার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে চলবে পররাষ্ট্র দপ্তর: ফিরছি জিয়াউর রহমানের দর্শনে

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার একটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন—তাহলো সবার আগে আমাদের দেশ। আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডের মূলমন্ত্র হবে জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না; এটি আমাদের জন্য একটি ‘রেডলাইন’।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছি। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭৮ সালে জাপানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ, দক্ষিণ এশিয়ায় কানেক্টিভিটি বাড়াতে সার্ক প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় আল কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ তার সামর্থ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূমিকা রাখতে পারেনি, এখন সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা আরও জোরদার করা হবে। সংকট সমাধানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তিনি দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

নিজের নিয়োগ ও বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, তারা চাইলে পুনরায় ভোট গণনা করে দেখতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি জানান, কারো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তিনি নিজ থেকে কোনো পদ চেয়ে নেননি।

সবশেষে গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। একটি ভুল তথ্য বা অপপ্রচার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।