ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক করতে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।

গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে স্থানীয় সরকারের শীর্ষ পদগুলো থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তৎকালীন জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসকরাই দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার দ্রুত নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে বলে জানান মন্ত্রী।

নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না। আগে নথিপত্র পর্যালোচনা করবেন এবং তারপর এ বিষয়ে কথা বলবেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কাজের মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই। একটি বিশেষ সংকটকালীন সময়ে তারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং সিংহভাগ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তাদের এই কৃতিত্ব দিতেই হবে।”

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটা খারাপ বলা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে ধ্বংসের মুখে ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থানের পর সব কিছু এক দিনে স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। তবে নির্বাচিত সরকার আসায় দ্রুতই সব সংকট কেটে যাবে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরে জানানো হবে। সরকারের ভেতরে আলোচনার পর আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেব।” এছাড়া দেশের কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার ঘটনাকে তিনি ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৬:০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক করতে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।

গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে স্থানীয় সরকারের শীর্ষ পদগুলো থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তৎকালীন জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসকরাই দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার দ্রুত নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে বলে জানান মন্ত্রী।

নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না। আগে নথিপত্র পর্যালোচনা করবেন এবং তারপর এ বিষয়ে কথা বলবেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কাজের মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই। একটি বিশেষ সংকটকালীন সময়ে তারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং সিংহভাগ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তাদের এই কৃতিত্ব দিতেই হবে।”

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটা খারাপ বলা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে ধ্বংসের মুখে ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি বড় গণঅভ্যুত্থানের পর সব কিছু এক দিনে স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। তবে নির্বাচিত সরকার আসায় দ্রুতই সব সংকট কেটে যাবে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরে জানানো হবে। সরকারের ভেতরে আলোচনার পর আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেব।” এছাড়া দেশের কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলার ঘটনাকে তিনি ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে অভিহিত করেন।