দলীয় প্রভাব কিংবা কোনো ধরনের জবরদস্তি নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই বার্তা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এই নতুন অভিযাত্রায় তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
দেশের সামগ্রিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাহাড় কিংবা সমতল—ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ আবাসভূমি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।” তিনি একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পূর্ববর্তী শাসনামলের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ফলে বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং দুর্বল শাসনকাঠামোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের পথচলা শুরু হয়েছে। তবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন করাই সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার।” বিশেষ করে সমাজ থেকে জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
জনজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পেশিশক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইনের শাসন সমুন্নত রাখাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
রিপোর্টারের নাম 









