ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মিতব্যয়িতা ও জনভোগান্তি হ্রাসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত: নিজস্ব গাড়িতেই চলবেন প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে তিনি সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতেই নিয়মিত যাতায়াত করবেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেল ও চালকের সুবিধাও তিনি গ্রহণ করবেন না বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত টয়োটা গাড়িটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি এই গাড়ির জ্বালানি খরচও তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এদিন সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে ব্যক্তিগত সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে চড়েই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেন।

জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর নিরাপত্তা বহরেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে সাধারণত ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকলেও, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘদিনের প্রথাটিও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের কারণে যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।

জাতীয় পতাকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছেন। দৈনন্দিন চলাচলের সময় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে কোনো পতাকা ব্যবহার করা হবে না। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সফরের সময় প্রটোকল অনুযায়ী গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে।

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও যানজট এড়াতে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করলে রাজধানীতে বাড়তি যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভিআইপি মুভমেন্টের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জনস্বার্থ বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে সচিবালয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসেই প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরে বাংলা নগরের কর্মসূচি শেষ করে সচিবালয়ে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

মিতব্যয়িতা ও জনভোগান্তি হ্রাসে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত: নিজস্ব গাড়িতেই চলবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে তিনি সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতেই নিয়মিত যাতায়াত করবেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেল ও চালকের সুবিধাও তিনি গ্রহণ করবেন না বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত টয়োটা গাড়িটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি এই গাড়ির জ্বালানি খরচও তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এদিন সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে ব্যক্তিগত সাদা রঙের টয়োটা গাড়িতে চড়েই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেন।

জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর নিরাপত্তা বহরেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে সাধারণত ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকলেও, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘদিনের প্রথাটিও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের কারণে যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।

জাতীয় পতাকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছেন। দৈনন্দিন চলাচলের সময় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে কোনো পতাকা ব্যবহার করা হবে না। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সফরের সময় প্রটোকল অনুযায়ী গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে।

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও যানজট এড়াতে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করলে রাজধানীতে বাড়তি যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভিআইপি মুভমেন্টের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জনস্বার্থ বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে সচিবালয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসেই প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরে বাংলা নগরের কর্মসূচি শেষ করে সচিবালয়ে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।