দেশের অর্থনীতিকে সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং অর্থনীতির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে নবাগত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকতে হবে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জনগণের মনোজগতে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেখানে খারাপ অবস্থা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করাকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি গণতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি সফলভাবে করতে হলে ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) ও লিবারলাইজেশন (উদারীকরণ) অপরিহার্য। তিনি বলেন, আমাদের শুধু উৎপাদন-নির্ভর অর্থনীতিতে আটকে না থেকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাকে সম্পৃক্ত করার উদাহরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী বরিশালের শীতলপাটির প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, সাধারণ একটি শীতলপাটির দাম ৬০০ বা ৭০০ টাকা। যদি শীতলপাটির কারিগরদের কারু প্রশিক্ষণ, ঋণ এবং অনলাইন বিপণনের মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায়, তবে তারা বিভিন্ন ডিজাইনের পাটি ও নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করতে পারবে এবং এর একটি বিশাল বাজার তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফার বাস্তবায়নের আলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি একটি গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন।
অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোঃ আবদুর রহমান খানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 









