ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

তারেক রহমানকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন: পাশে থাকার অঙ্গীকার ও দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা পৃথক বার্তায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এই উপলক্ষে পাঠানো এক অভিনন্দন পত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বিজয়কে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট। দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করে তিনি কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তার বার্তায় বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার। গত ৫১ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ একে অপরের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। লি কিয়াং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা। এছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো। বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশ এবং উন্নত বিমান যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত পত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন এবং ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে শুভকামনা জানান।

নতুন সরকারের এই অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ১৪টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রভাবশালী দেশগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অভিনন্দন বার্তাকে বাংলাদেশের আগামীর পথচলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইল-মার্কিন যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত, ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

তারেক রহমানকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন: পাশে থাকার অঙ্গীকার ও দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ

আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা পৃথক বার্তায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এই উপলক্ষে পাঠানো এক অভিনন্দন পত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বিজয়কে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট। দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা স্মরণ করে তিনি কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তার বার্তায় বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার। গত ৫১ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ একে অপরের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। লি কিয়াং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা। এছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জো। বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশ এবং উন্নত বিমান যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত পত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন এবং ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে শুভকামনা জানান।

নতুন সরকারের এই অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ১৪টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রভাবশালী দেশগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অভিনন্দন বার্তাকে বাংলাদেশের আগামীর পথচলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।