পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের প্রথম দিনেই রাজধানীতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির ট্রাকের সামনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার স্বস্তির চেয়ে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তিই ছিল বেশি।
রাজধানীর সচিবালয় সংলগ্ন তোপখানা রোড, সুরিটোলা, প্রেসক্লাব ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাক ঘিরে শত শত মানুষের ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং অনেক স্থানে ক্রেতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে অনেক ক্রেতাকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানা হচ্ছে না। লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও প্রভাবশালী বা পরিচিত ব্যক্তিদের আগে পণ্য দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন অনেকে। বেসরকারি এক চাকুরিজীবী জানান, তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি পণ্য পাননি, অথচ এক শ্রেণির মানুষ বারবার পণ্য সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষেরা অভিযোগ করেছেন যে, বিশৃঙ্খলার সুযোগে সাধারণ মানুষের বদলে অনেকে বস্তা ভরে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন, যা তদারকি করার কেউ নেই।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্রয় কার্যক্রম আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫০টি এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০টি ট্রাকসহ সারা দেশে মোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৪০০ জন ক্রেতা ৫৯০ টাকার একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ কিনতে পারছেন। এই প্যাকেজে রয়েছে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর।
রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে নারী ক্রেতাদের লাইনে বিশৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের দিকে প্রেসক্লাব এলাকায় নারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে প্রকৃত দুস্থরা পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শৃঙ্খলার সাথে পণ্য বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
রিপোর্টারের নাম 




















