ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায় নতুন নিউজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরদিন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নিয়োগ দেশের শিক্ষাখাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আ ন ম এহসানুল হক মিলন একজন পরিচিত মুখ। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, একজন লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এই খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করেছে।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া মিলন শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শের ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন, যেখানে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা।

মিলনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চাঁদপুর-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দলের নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন এবং এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাকৃবিতে ছাত্রদল নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা: শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধে উত্তেজনা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায় নতুন নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরদিন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নিয়োগ দেশের শিক্ষাখাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আ ন ম এহসানুল হক মিলন একজন পরিচিত মুখ। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, একজন লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে এই খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দান করেছে।

১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া মিলন শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শের ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন, যেখানে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা।

মিলনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চাঁদপুর-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দলের নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন এবং এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা যায়।