ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী: আসাদুজ্জামানের রাজনৈতিক যাত্রার এক নতুন অধ্যায় ##

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছেন সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এটি তার রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট, যা তার বিশাল ব্যবধানের জয়কে নিশ্চিত করে।

ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবন:

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর বাবা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মা বেগম রোকেয়া। শিক্ষা জীবনের শুরু নিজ জেলা ঝিনাইদহ থেকেই। ১৯৮৭ সালে যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ও কর্মজীবন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৮৯-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পর, ১৯৯৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর, ১৯৯৬ সালে তিনি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন এবং তাঁর দীর্ঘ সাহচর্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ল চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

মো. আসাদুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন পেশায় থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং জটিল আইনি সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ভিড়ে নিরাপত্তার শঙ্কা: আমেনাদের সুরক্ষা মিলবে কবে?

সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী: আসাদুজ্জামানের রাজনৈতিক যাত্রার এক নতুন অধ্যায় ##

আপডেট সময় : ০৯:০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছেন সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এটি তার রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট, যা তার বিশাল ব্যবধানের জয়কে নিশ্চিত করে।

ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবন:

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর বাবা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মা বেগম রোকেয়া। শিক্ষা জীবনের শুরু নিজ জেলা ঝিনাইদহ থেকেই। ১৯৮৭ সালে যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ও কর্মজীবন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৮৯-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পর, ১৯৯৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর, ১৯৯৬ সালে তিনি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন এবং তাঁর দীর্ঘ সাহচর্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ল চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

মো. আসাদুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন পেশায় থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং জটিল আইনি সমস্যার সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা যায়।