ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

দাদুর ঘরে বাবার চিঠি, উন্মোচিত একুশের এক অজানা অধ্যায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দাদুর পুরোনো ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে ৫০ বছর আগের এক ঐতিহাসিক চিঠির সন্ধান পেলেন সৃজন। এই চিঠি কেবল একটি পারিবারিক স্মারক নয়, বরং ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের এক অমূল্য দলিল, যা সৃজনের বাবার (তন্ময়) এক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছে। চিঠিতে তৎকালীন ঢাকার উত্তাল পরিস্থিতি, ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির অদম্য সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক সকালে, যখন সৃজন খেলার জন্য উঠোনে পা রাখতেই মা তাকে দাদুর ঘর পরিষ্কারের কাজে সাহায্য করতে বলেন। দাদু গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ছিল। মা মাকড়সার জাল পরিষ্কার করছিলেন আর সৃজন টুলের ওপর দাঁড়িয়ে বইপত্র ঝেড়ে-মুছে গুছিয়ে রাখছিল। এমন সময় অসাবধানতাবশত একটি বই হাত থেকে পড়ে যায়। বইটি তুলতে গিয়েই সৃজনের চোখে পড়ে বইয়ের ভাঁজে রাখা একটি পুরোনো চিঠি। তারিখ দেখে সে বুঝতে পারে, এটি তার বাবা তন্ময়ের লেখা, ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দাদুর (বাবার মা) কাছে পাঠানো একটি চিঠি। কৌতূহলবশত সৃজন চিঠিটি খুলে পড়তে শুরু করে।

চিঠির শুরুতেই বাবা তার মাকে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। এরপরই তিনি সরাসরি চলে যান ঢাকার উত্তাল পরিস্থিতির বর্ণনায়। তিনি লেখেন, “আমাদের গ্রামে খবরের কাগজ যায় না। বাড়িতে রেডিও নেই। তাই জানি না ঢাকার খবর জান কি না। গত পরশু রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নিয়ে আমরা যে মিছিল করেছিলাম, পুলিশ তার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তাতে বহু ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।”

তন্ময় তার মায়ের কাছে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। গত বছর বাড়িতে এসে মা যখন জানতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান হওয়ার মাত্র তিন বছরের মাথায় কেন তারা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ, সেদিন তিনি এর কারণ বলতে পারেননি। চিঠিতে তিনি লেখেন, “কারণটা সেদিন বলা হয়নি, আজ বলছি। প্রথমেই জেনে রাখো মা, ওদের ওপর খেপে ওঠার পেছনে অনেক কারণ আছে। তুমি তো জানো, পূর্ব পাকিস্তানে আমরা রয়েছি ছয় কোটি বাঙালি। তার মানে, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ ভাগ। অথচ ৪৩ ভাগ মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করে ওরা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে! কায়দে আযম বলেছেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এটা তাদের অন্যায় দাবি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, “জীবন থাকতে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেব না। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাঙালিদের অবস্থান ওপরে। বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা। তাই উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে হবে।”

চিঠিতে আরও উঠে আসে সরকারের একগুঁয়েমি এবং কিছু বাঙালি নেতার বিশ্বাসঘাতকতার কথা। তন্ময় লেখেন, “আমাদের দাবি যে অযৌক্তিক নয়, আমরা তা সরকারকে বোঝাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের মাথার ওপর যেসব অবাঙালি কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা কিছুতেই বাংলা ভাষাকে প্রাপ্য সম্মান দিতে রাজি নন। শুনে অবাক হবে, নূরুল আমিন আর নাজিমুদ্দীনের মতো বাঙালি নেতারাও ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার সম্মান দিতে চাইছেন! শুধু তা-ই নয় মা, ওরা বাংলা বাক্যকে উর্দু হরফে লেখার জন্য আমাদের বাধ্য করতে চাইছে। এমন অন্যায় কী মেনে নেওয়া যায়? মেনে নেওয়া যায় না বলেই গত একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে আমরা মিছিল বের করেছি। ওটা ছিল শান্তিপূর্ণ মিছিল। কিন্তু সরকারের পুলিশ বাহিনী শান্তি বজায় রাখতে দেয়নি। ওরা নির্দয়ভাবে গুলি চালিয়েছে। তাতে অনেকে শহীদ হয়েছেন। অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢুকিয়েছে।”

ব্যক্তিগত ঝুঁকির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন তন্ময়। তার রুমমেট আফজাল মিছিলে তার পাশেই ছিল, কিন্তু গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর সে হারিয়ে যায়। তন্ময় তার মায়ের কাছে আফজালের জন্য দোয়া চেয়ে লেখেন, “জানি না আফজালও ভাষা শহীদদের একজন হয়ে গেছে কি না।” ঢাকার পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল ছিল, তাও উঠে আসে চিঠিতে। পুলিশ আন্দোলনরত ছাত্রদের খুঁজে বের করার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং যাকে পাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করছিল। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তন্ময় হল ছেড়ে পুরোনো ঢাকায় এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। মায়ের দুশ্চিন্তা লাঘবের জন্য তিনি লেখেন, “আমার জন্য চিন্তা কোরো না। সবার ওপর আল্লাহ আছেন। তিনি আমাকে ভালোই রেখেছেন।”

চিঠি পড়া শেষ হতেই সৃজন দেখল তার মা অসীম কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছেন। সৃজন পেছনে ঘুরতেই মা জিজ্ঞেস করলেন, “কী পড়ছিস? ওটা কী?” সৃজন উত্তর দেয়, “দাদুর কাছে লেখা বাবার চিঠি। বাবাও যে বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, কোনোদিন সে কথা শুনিনি! আজ এ চিঠি পড়ে তা জানতে পারলাম। বাবা কখনো সে কথা বলেননি কেন, মা?”

মা এক মুহূর্ত ভাবলেন, তারপর বললেন, “নিজ থেকে তিনি আমাকেও বলেননি। আমি তোর দাদা-দাদুর কাছে শুনেছি।” মা আরও যোগ করেন, “কেন যে নিজমুখে ওসব কথা কাউকে বলেননি, তা তো জানি না। সম্ভবত দেশের জন্য কিছু করে সে কথাকে জনে জনে বলে বেড়ানোটাকে তিনি অসম্মানজনক মনে করতেন, তাই কাউকে বলেননি।”

চিঠিটাকে ভাঁজ করে পকেটে রাখতে রাখতে সৃজনের চোখেমুখে এক নতুন দ্যুতি। সে বলে ওঠে, “বাবার জন্য সবসময় আমার শ্রদ্ধা ছিল। আজ থেকে সেইসঙ্গে যোগ হলো অহংকার। আমার বাবাও বাহান্নর মিছিলে ছিলেন, বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন—সেই পবিত্র অহংকার।” এই চিঠি কেবল একটি পরিবারের গোপন ইতিহাস উন্মোচন করেনি, বরং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান আত্মত্যাগের এক জীবন্ত দলিল হিসেবেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফিরে এসেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়াতুল্লাহ খামেনী হত্যার প্রতিবাদে আজ বায়তুল মোকাররমে জামায়াতের বিক্ষোভ

দাদুর ঘরে বাবার চিঠি, উন্মোচিত একুশের এক অজানা অধ্যায়

আপডেট সময় : ০২:০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দাদুর পুরোনো ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে ৫০ বছর আগের এক ঐতিহাসিক চিঠির সন্ধান পেলেন সৃজন। এই চিঠি কেবল একটি পারিবারিক স্মারক নয়, বরং ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের এক অমূল্য দলিল, যা সৃজনের বাবার (তন্ময়) এক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছে। চিঠিতে তৎকালীন ঢাকার উত্তাল পরিস্থিতি, ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বাঙালির অদম্য সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক সকালে, যখন সৃজন খেলার জন্য উঠোনে পা রাখতেই মা তাকে দাদুর ঘর পরিষ্কারের কাজে সাহায্য করতে বলেন। দাদু গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ছিল। মা মাকড়সার জাল পরিষ্কার করছিলেন আর সৃজন টুলের ওপর দাঁড়িয়ে বইপত্র ঝেড়ে-মুছে গুছিয়ে রাখছিল। এমন সময় অসাবধানতাবশত একটি বই হাত থেকে পড়ে যায়। বইটি তুলতে গিয়েই সৃজনের চোখে পড়ে বইয়ের ভাঁজে রাখা একটি পুরোনো চিঠি। তারিখ দেখে সে বুঝতে পারে, এটি তার বাবা তন্ময়ের লেখা, ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দাদুর (বাবার মা) কাছে পাঠানো একটি চিঠি। কৌতূহলবশত সৃজন চিঠিটি খুলে পড়তে শুরু করে।

চিঠির শুরুতেই বাবা তার মাকে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন। এরপরই তিনি সরাসরি চলে যান ঢাকার উত্তাল পরিস্থিতির বর্ণনায়। তিনি লেখেন, “আমাদের গ্রামে খবরের কাগজ যায় না। বাড়িতে রেডিও নেই। তাই জানি না ঢাকার খবর জান কি না। গত পরশু রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি নিয়ে আমরা যে মিছিল করেছিলাম, পুলিশ তার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তাতে বহু ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। অনেকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।”

তন্ময় তার মায়ের কাছে সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। গত বছর বাড়িতে এসে মা যখন জানতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান হওয়ার মাত্র তিন বছরের মাথায় কেন তারা সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ, সেদিন তিনি এর কারণ বলতে পারেননি। চিঠিতে তিনি লেখেন, “কারণটা সেদিন বলা হয়নি, আজ বলছি। প্রথমেই জেনে রাখো মা, ওদের ওপর খেপে ওঠার পেছনে অনেক কারণ আছে। তুমি তো জানো, পূর্ব পাকিস্তানে আমরা রয়েছি ছয় কোটি বাঙালি। তার মানে, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ ভাগ। অথচ ৪৩ ভাগ মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করে ওরা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে! কায়দে আযম বলেছেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এটা তাদের অন্যায় দাবি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, “জীবন থাকতে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেব না। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাঙালিদের অবস্থান ওপরে। বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা। তাই উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে হবে।”

চিঠিতে আরও উঠে আসে সরকারের একগুঁয়েমি এবং কিছু বাঙালি নেতার বিশ্বাসঘাতকতার কথা। তন্ময় লেখেন, “আমাদের দাবি যে অযৌক্তিক নয়, আমরা তা সরকারকে বোঝাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের মাথার ওপর যেসব অবাঙালি কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা কিছুতেই বাংলা ভাষাকে প্রাপ্য সম্মান দিতে রাজি নন। শুনে অবাক হবে, নূরুল আমিন আর নাজিমুদ্দীনের মতো বাঙালি নেতারাও ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার সম্মান দিতে চাইছেন! শুধু তা-ই নয় মা, ওরা বাংলা বাক্যকে উর্দু হরফে লেখার জন্য আমাদের বাধ্য করতে চাইছে। এমন অন্যায় কী মেনে নেওয়া যায়? মেনে নেওয়া যায় না বলেই গত একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে আমরা মিছিল বের করেছি। ওটা ছিল শান্তিপূর্ণ মিছিল। কিন্তু সরকারের পুলিশ বাহিনী শান্তি বজায় রাখতে দেয়নি। ওরা নির্দয়ভাবে গুলি চালিয়েছে। তাতে অনেকে শহীদ হয়েছেন। অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ঢুকিয়েছে।”

ব্যক্তিগত ঝুঁকির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন তন্ময়। তার রুমমেট আফজাল মিছিলে তার পাশেই ছিল, কিন্তু গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর সে হারিয়ে যায়। তন্ময় তার মায়ের কাছে আফজালের জন্য দোয়া চেয়ে লেখেন, “জানি না আফজালও ভাষা শহীদদের একজন হয়ে গেছে কি না।” ঢাকার পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল ছিল, তাও উঠে আসে চিঠিতে। পুলিশ আন্দোলনরত ছাত্রদের খুঁজে বের করার জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং যাকে পাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করছিল। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তন্ময় হল ছেড়ে পুরোনো ঢাকায় এক বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। মায়ের দুশ্চিন্তা লাঘবের জন্য তিনি লেখেন, “আমার জন্য চিন্তা কোরো না। সবার ওপর আল্লাহ আছেন। তিনি আমাকে ভালোই রেখেছেন।”

চিঠি পড়া শেষ হতেই সৃজন দেখল তার মা অসীম কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছেন। সৃজন পেছনে ঘুরতেই মা জিজ্ঞেস করলেন, “কী পড়ছিস? ওটা কী?” সৃজন উত্তর দেয়, “দাদুর কাছে লেখা বাবার চিঠি। বাবাও যে বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, কোনোদিন সে কথা শুনিনি! আজ এ চিঠি পড়ে তা জানতে পারলাম। বাবা কখনো সে কথা বলেননি কেন, মা?”

মা এক মুহূর্ত ভাবলেন, তারপর বললেন, “নিজ থেকে তিনি আমাকেও বলেননি। আমি তোর দাদা-দাদুর কাছে শুনেছি।” মা আরও যোগ করেন, “কেন যে নিজমুখে ওসব কথা কাউকে বলেননি, তা তো জানি না। সম্ভবত দেশের জন্য কিছু করে সে কথাকে জনে জনে বলে বেড়ানোটাকে তিনি অসম্মানজনক মনে করতেন, তাই কাউকে বলেননি।”

চিঠিটাকে ভাঁজ করে পকেটে রাখতে রাখতে সৃজনের চোখেমুখে এক নতুন দ্যুতি। সে বলে ওঠে, “বাবার জন্য সবসময় আমার শ্রদ্ধা ছিল। আজ থেকে সেইসঙ্গে যোগ হলো অহংকার। আমার বাবাও বাহান্নর মিছিলে ছিলেন, বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন—সেই পবিত্র অহংকার।” এই চিঠি কেবল একটি পরিবারের গোপন ইতিহাস উন্মোচন করেনি, বরং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহান আত্মত্যাগের এক জীবন্ত দলিল হিসেবেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফিরে এসেছে।