ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচনে জামায়াতের উত্থান: ভারতীয় গণমাধ্যমে নিরাপত্তা উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য উত্থান প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে জামায়াতের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে তাদের বিজয় ভারতের জন্য বিশেষ শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দলটির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জোটবদ্ধতা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ৭৭টি আসন লাভ করেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে পাশে রেখে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ভারত সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জামায়াত ও এনসিপি জোট আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় তাদের অবস্থান জোরদার করেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রাজনৈতিক মেরুকরণ সীমান্ত অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে এই জোটের প্রভাব একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিদ্যমান ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত তাদের ভোটব্যাংক সম্প্রসারিত করেছে। এটি ভারতের জন্য একটি নিশ্চিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে বলে তারা মনে করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামায়াত গত ২৫ বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় উত্থান দেখেছে, এবং এর অধিকাংশ বিজয় এসেছে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।

নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের এই বিজয়কে ভারতীয় বিশ্লেষকরা ‘সিঁদুরে মেঘ’ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, জামায়াত ও তার মিত্ররা প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা একটি সাধারণ বিষয় নয়। বিশেষ করে লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর, সাতক্ষীরাসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াতের অভাবনীয় ফল ভারতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। এসব অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ।

অপইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জামায়াতের উত্থানকে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এই নির্বাচন হিন্দুবিরোধী ভোটের একটি প্রবণতা দেখিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানপন্থি ও ভারতবিরোধী হিসেবে বিবেচিত জামায়াতের এই বিপুল আসন লাভ ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সংকটে থাকলেও এবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। জামায়াত নেতৃত্বের ১১ দলীয় জোটের ৬৮টি আসনের মধ্যে ৫১টি আসন ভারতের সীমান্তসংলগ্ন জেলাগুলোতে দখল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রবণতাটি সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের একটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত বছরের পর বছর ধরে এই জেলাগুলোতে নীরবে কাজ করে আসছে এবং আওয়ামী লীগের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এই ইসলামি শক্তির পুনরুত্থান ঘটেছে। এই উত্থানের আদর্শিক প্রভাব সীমান্তের বাইরেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ সমর্থন করে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর জয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। দলটি ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের ইত্যাদিতে অর্ধশতাধিক বিদেশির নাচ-গান: সমাজ সচেতনতার বিশেষ বার্তা

বাংলাদেশের নির্বাচনে জামায়াতের উত্থান: ভারতীয় গণমাধ্যমে নিরাপত্তা উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৬:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য উত্থান প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে জামায়াতের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে তাদের বিজয় ভারতের জন্য বিশেষ শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দলটির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জোটবদ্ধতা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ৭৭টি আসন লাভ করেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে পাশে রেখে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ভারত সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জামায়াত ও এনসিপি জোট আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় তাদের অবস্থান জোরদার করেছে, যা ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রাজনৈতিক মেরুকরণ সীমান্ত অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে এই জোটের প্রভাব একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিদ্যমান ভারতবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত তাদের ভোটব্যাংক সম্প্রসারিত করেছে। এটি ভারতের জন্য একটি নিশ্চিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে বলে তারা মনে করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামায়াত গত ২৫ বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় উত্থান দেখেছে, এবং এর অধিকাংশ বিজয় এসেছে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঘনিষ্ঠতা ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।

নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের এই বিজয়কে ভারতীয় বিশ্লেষকরা ‘সিঁদুরে মেঘ’ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, জামায়াত ও তার মিত্ররা প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা একটি সাধারণ বিষয় নয়। বিশেষ করে লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর, সাতক্ষীরাসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াতের অভাবনীয় ফল ভারতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। এসব অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ।

অপইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জামায়াতের উত্থানকে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এই নির্বাচন হিন্দুবিরোধী ভোটের একটি প্রবণতা দেখিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানপন্থি ও ভারতবিরোধী হিসেবে বিবেচিত জামায়াতের এই বিপুল আসন লাভ ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সংকটে থাকলেও এবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামায়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। জামায়াত নেতৃত্বের ১১ দলীয় জোটের ৬৮টি আসনের মধ্যে ৫১টি আসন ভারতের সীমান্তসংলগ্ন জেলাগুলোতে দখল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রবণতাটি সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের একটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত বছরের পর বছর ধরে এই জেলাগুলোতে নীরবে কাজ করে আসছে এবং আওয়ামী লীগের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এই ইসলামি শক্তির পুনরুত্থান ঘটেছে। এই উত্থানের আদর্শিক প্রভাব সীমান্তের বাইরেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ সমর্থন করে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর জয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। দলটি ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।