ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সাড়ে তিন শ প্রকাশনী বাদ রেখেই শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বড় বড় কয়েকটি প্রকাশনীসহ সাড়ে ৩০০ প্রকাশনীর অংশগ্রহণ ছাড়াই আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে “অমর একুশে বইমেলা-২০২৬” । ‘প্রকাশক ঐক্য’ নামে নতুন প্লাটফর্মে যুক্ত হওয়া এসব প্রকাশকের দাবি, তাদের বাদ রেখেই মেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি।

তবে এত বড় সংখ্যক প্রকাশনী বাইরে থাকার বিষয়ে কোনও দায় নিচ্ছে না বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য—সরকার ও প্রকাশকদের সিদ্ধান্তে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে; তারা শুধু নির্দেশ পালন করছে।

জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকাশকরা তো বেশ কিছুদিন আগে থেকেই (ঈদের পর) করার কথা বলছেন। কিন্তু প্রকাশকদের মতামত নিয়েই তো আমরা তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। এটা সরকার ও প্রকাশকদের যৌথ সিদ্ধান্ত। বাংলা একাডেমি শুধু ক্যারি করছে মাত্র। প্রকাশকদের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতেই মেলা করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। এখন যে নতুন সরকার আসতে যাচ্ছে তাদেরও ফেব্রুয়ারিতেই শুরু করার ইচ্ছা। বাংলা একাডেমি শুধু নির্দেশনা পালন করবে। সরকার যেভাবে বলবে সেভাবেই করবে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মেলা অনেক বড় ব্যাপার—রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়। তবে আমরা এখনও অনুরোধ করবো, বড় প্রকাশকরা যেন মেলায় আসেন। তারা না এলে মেলার সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ হবে।”

মেলায় অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ‘মাতৃভাষা প্রকাশ’-এর স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নেছার উদ্দিন আইয়ুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেলাটা আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি মিলে। আমরা মতামত আগেই জানিয়েছি। কিন্তু সরকার মেলাটা করছে। ফেব্রুয়ারির চেতনার সঙ্গে এই মেলাটা সংস্কৃতির বিষয়। আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে—কেউ যাচ্ছে, কেউ বলছে পরে করলে ভালো হতো; রোজার মধ্যে করলে ভালো হবে না। বাপুস সরকারের সঙ্গে কো-অপারেশন করেই মেলা করছে। আমরা বাণিজ্যিক সংগঠন, সরকারের বিপক্ষে যেতে পারি না। অনেক মিটিং হয়েছে। সরকার মেলা করছে—কেউ যাচ্ছে, কেউ যাচ্ছে না।”

দেশের বড় বড় প্রকাশনীসহ সাড়ে তিনশ’ প্রকাশনী অংশ না নেওয়ার পরও কেন মেলা হচ্ছে—এ প্রশ্নে নেছার উদ্দিন আইয়ুব বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা সংঘর্ষে যেতে পারি না। যারা যাচ্ছেন না তাদের পক্ষেও কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার মেলা করবেই। সরকার মেলা করলে আমাদের সমিতির এসিস্ট করাটাও দায়িত্ব। বিভক্তিটা হয়েই গেছে—এটাই বাস্তবতা।”

‘প্রকাশক ঐক্য’ জানিয়েছে, দেশের বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনীগুলো অংশ নিচ্ছে না। আর যারা অংশ নিচ্ছে তাদের বেশিরভাগকেই প্রকাশকরা চেনেন না।

সরকার ও প্রকাশকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মেলা হচ্ছে, বাংলা একাডেমির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মেলায় অংশ না নেওয়া এক প্রকাশক বলেন, “বাংলা একাডেমির এই বক্তব্য নির্জলজ্জ ও মিথ্যাচার। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি প্রায় ১৫ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে—ঈদের পর বইমেলা চায়। একই সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা বাংলা একাডেমির সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ইসলামি প্রকাশকদের নিয়ে মেলা করতে চাচ্ছে। একুশে বইমেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রকাশনীগুলো—ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, অনন্যা, অন্বেষা, আগামী প্রকাশন, পাঠক সমাবেশ, আনন্দ পাবলিশার্স, কথাপ্রকাশ—নেই। তাহলে কাদের নিয়ে মেলা হচ্ছে? যেসব প্রকাশনার বই পড়ে পাঠক তৈরি হয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে মেলা করা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”

জানা গেছে, ঐতিহ্য প্রকাশনী একইসঙ্গে পাঁচটি স্টল পেয়েছে—ঐতিহ্য, কাকাতুয়া, গ্রিপার মার্ক, পিলহাম ও সৃজন নামে। কয়েকজন প্রকাশক অভিযোগ করেছেন, ঐতিহ্যের একক ইশারায় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলা একাডেমিতে স্টল নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—মুহম্মদ পাবলিকেশনস, হাদিস ফাইন্ডেশন বাংলাদেশ, সোলেমানিয়া বুক হাউস, আলিফ পাবলিকেশন, ইসলামিয়া চিশতিয়া পাবলিকেশন, ইত্তিহাদ পাবলিকেশন, ওয়াফি পাবলিকেশন, তওহিদ প্রকাশন, দারুত তাহলীল প্রকাশনী, দারুল ইলম পাবলিকেশন, দারুস সালাম বাংলাদেশ, মাকতাবুল আযহার, মাকতাবুল আশরাফ, মাকতাবুল ইসলাম, মাকতাবুল আসলাফ, মাকতাবুল হাসান, মাকতাবুল সাহাবা, মুসলিম ভিলেজ, আলোর ঠিকানা প্রকাশনী, ইলহাম, আল আমিন প্রকাশনীসহ কয়েকশ প্রকাশনী। তবে সৃজনশীল সাড়ে তিনশ’ প্রকাশনী মেলায় অংশ নিচ্ছে না।

ঈদের পর বইমেলা করার দাবিতে গঠিত এসব প্রকাশকের প্লাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’ বলছে—ঈদের আগে বইমেলা হলে তারা অংশ নেবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বলেন, “ঈদের আগে বইমেলা হলে অংশ নিতে পারবো না। প্রকাশক ঐক্যের সঙ্গে সাড়ে তিনশ’ প্রকাশক রয়েছেন। বড় বড় প্রকাশনী রয়েছে ঐক্যের সঙ্গে।”

আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের জন্য ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন। রেওয়াজ অনুযায়ী একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন দেশের সরকারপ্রধান। এবারও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, প্রায় ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টলের ভাড়া পরিশোধ করেছে, আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। ইতোমধ্যে ৫১৫ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রকাশকদের মধ্যে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

যদিও প্রকাশিত তালিকায় ২৯৯টি প্রকাশনীর নাম রয়েছে; এর মধ্যে ১৫০-এর বেশি বাপুসের সদস্য নন। আর ৭০-এর বেশি প্রকাশক গত বইমেলায় অংশ নেননি এবং কেউ কেউ আগে কখনও বইমেলায় অংশ নেননি।

অন্যদিকে, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বলেছে, “সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় উপনীত হওয়া কোনও ব্যবসায়ী সংগঠনেরই উচিত নয়।”

প্রকাশক ঐক্যের দাবি, প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত বইমেলা স্থগিত করে ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে, সকল প্রকাশকের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের ইত্যাদিতে অর্ধশতাধিক বিদেশির নাচ-গান: সমাজ সচেতনতার বিশেষ বার্তা

সাড়ে তিন শ প্রকাশনী বাদ রেখেই শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা

আপডেট সময় : ০২:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বড় বড় কয়েকটি প্রকাশনীসহ সাড়ে ৩০০ প্রকাশনীর অংশগ্রহণ ছাড়াই আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে “অমর একুশে বইমেলা-২০২৬” । ‘প্রকাশক ঐক্য’ নামে নতুন প্লাটফর্মে যুক্ত হওয়া এসব প্রকাশকের দাবি, তাদের বাদ রেখেই মেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি।

তবে এত বড় সংখ্যক প্রকাশনী বাইরে থাকার বিষয়ে কোনও দায় নিচ্ছে না বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য—সরকার ও প্রকাশকদের সিদ্ধান্তে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে; তারা শুধু নির্দেশ পালন করছে।

জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকাশকরা তো বেশ কিছুদিন আগে থেকেই (ঈদের পর) করার কথা বলছেন। কিন্তু প্রকাশকদের মতামত নিয়েই তো আমরা তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। এটা সরকার ও প্রকাশকদের যৌথ সিদ্ধান্ত। বাংলা একাডেমি শুধু ক্যারি করছে মাত্র। প্রকাশকদের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতেই মেলা করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। এখন যে নতুন সরকার আসতে যাচ্ছে তাদেরও ফেব্রুয়ারিতেই শুরু করার ইচ্ছা। বাংলা একাডেমি শুধু নির্দেশনা পালন করবে। সরকার যেভাবে বলবে সেভাবেই করবে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মেলা অনেক বড় ব্যাপার—রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিষয়। তবে আমরা এখনও অনুরোধ করবো, বড় প্রকাশকরা যেন মেলায় আসেন। তারা না এলে মেলার সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ হবে।”

মেলায় অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ‘মাতৃভাষা প্রকাশ’-এর স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) বইমেলা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নেছার উদ্দিন আইয়ুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেলাটা আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি মিলে। আমরা মতামত আগেই জানিয়েছি। কিন্তু সরকার মেলাটা করছে। ফেব্রুয়ারির চেতনার সঙ্গে এই মেলাটা সংস্কৃতির বিষয়। আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে—কেউ যাচ্ছে, কেউ বলছে পরে করলে ভালো হতো; রোজার মধ্যে করলে ভালো হবে না। বাপুস সরকারের সঙ্গে কো-অপারেশন করেই মেলা করছে। আমরা বাণিজ্যিক সংগঠন, সরকারের বিপক্ষে যেতে পারি না। অনেক মিটিং হয়েছে। সরকার মেলা করছে—কেউ যাচ্ছে, কেউ যাচ্ছে না।”

দেশের বড় বড় প্রকাশনীসহ সাড়ে তিনশ’ প্রকাশনী অংশ না নেওয়ার পরও কেন মেলা হচ্ছে—এ প্রশ্নে নেছার উদ্দিন আইয়ুব বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা সংঘর্ষে যেতে পারি না। যারা যাচ্ছেন না তাদের পক্ষেও কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার মেলা করবেই। সরকার মেলা করলে আমাদের সমিতির এসিস্ট করাটাও দায়িত্ব। বিভক্তিটা হয়েই গেছে—এটাই বাস্তবতা।”

‘প্রকাশক ঐক্য’ জানিয়েছে, দেশের বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনীগুলো অংশ নিচ্ছে না। আর যারা অংশ নিচ্ছে তাদের বেশিরভাগকেই প্রকাশকরা চেনেন না।

সরকার ও প্রকাশকদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মেলা হচ্ছে, বাংলা একাডেমির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মেলায় অংশ না নেওয়া এক প্রকাশক বলেন, “বাংলা একাডেমির এই বক্তব্য নির্জলজ্জ ও মিথ্যাচার। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি প্রায় ১৫ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে—ঈদের পর বইমেলা চায়। একই সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা বাংলা একাডেমির সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ইসলামি প্রকাশকদের নিয়ে মেলা করতে চাচ্ছে। একুশে বইমেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রকাশনীগুলো—ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, অনন্যা, অন্বেষা, আগামী প্রকাশন, পাঠক সমাবেশ, আনন্দ পাবলিশার্স, কথাপ্রকাশ—নেই। তাহলে কাদের নিয়ে মেলা হচ্ছে? যেসব প্রকাশনার বই পড়ে পাঠক তৈরি হয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে মেলা করা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”

জানা গেছে, ঐতিহ্য প্রকাশনী একইসঙ্গে পাঁচটি স্টল পেয়েছে—ঐতিহ্য, কাকাতুয়া, গ্রিপার মার্ক, পিলহাম ও সৃজন নামে। কয়েকজন প্রকাশক অভিযোগ করেছেন, ঐতিহ্যের একক ইশারায় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলা একাডেমিতে স্টল নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—মুহম্মদ পাবলিকেশনস, হাদিস ফাইন্ডেশন বাংলাদেশ, সোলেমানিয়া বুক হাউস, আলিফ পাবলিকেশন, ইসলামিয়া চিশতিয়া পাবলিকেশন, ইত্তিহাদ পাবলিকেশন, ওয়াফি পাবলিকেশন, তওহিদ প্রকাশন, দারুত তাহলীল প্রকাশনী, দারুল ইলম পাবলিকেশন, দারুস সালাম বাংলাদেশ, মাকতাবুল আযহার, মাকতাবুল আশরাফ, মাকতাবুল ইসলাম, মাকতাবুল আসলাফ, মাকতাবুল হাসান, মাকতাবুল সাহাবা, মুসলিম ভিলেজ, আলোর ঠিকানা প্রকাশনী, ইলহাম, আল আমিন প্রকাশনীসহ কয়েকশ প্রকাশনী। তবে সৃজনশীল সাড়ে তিনশ’ প্রকাশনী মেলায় অংশ নিচ্ছে না।

ঈদের পর বইমেলা করার দাবিতে গঠিত এসব প্রকাশকের প্লাটফর্ম ‘প্রকাশক ঐক্য’ বলছে—ঈদের আগে বইমেলা হলে তারা অংশ নেবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বলেন, “ঈদের আগে বইমেলা হলে অংশ নিতে পারবো না। প্রকাশক ঐক্যের সঙ্গে সাড়ে তিনশ’ প্রকাশক রয়েছেন। বড় বড় প্রকাশনী রয়েছে ঐক্যের সঙ্গে।”

আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের জন্য ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন। রেওয়াজ অনুযায়ী একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন দেশের সরকারপ্রধান। এবারও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, প্রায় ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টলের ভাড়া পরিশোধ করেছে, আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। ইতোমধ্যে ৫১৫ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রকাশকদের মধ্যে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

যদিও প্রকাশিত তালিকায় ২৯৯টি প্রকাশনীর নাম রয়েছে; এর মধ্যে ১৫০-এর বেশি বাপুসের সদস্য নন। আর ৭০-এর বেশি প্রকাশক গত বইমেলায় অংশ নেননি এবং কেউ কেউ আগে কখনও বইমেলায় অংশ নেননি।

অন্যদিকে, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বলেছে, “সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় উপনীত হওয়া কোনও ব্যবসায়ী সংগঠনেরই উচিত নয়।”

প্রকাশক ঐক্যের দাবি, প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত বইমেলা স্থগিত করে ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে, সকল প্রকাশকের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের।