একটি সমাজ তখনই প্রকৃত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছায়, যখন সেখানে নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং সমান অধিকার নিশ্চিত হয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অর্থনীতি, শিক্ষা ও নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে নারীদের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের অগ্রযাত্রাকে পাশ কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেছে। তিনি জানান, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপগুলো নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট বা নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের এই পরিবেশ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। জয়-পরাজয়কে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিজয়ী ও বিজিত—উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে এবং ভোটারদের আস্থা প্রায় সমানভাবে দুই পক্ষের ওপরই বণ্টিত হয়েছে, যা সুস্থ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা সরকারের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে জানান, বর্তমান প্রশাসনের ১৮ মাসের দায়িত্বকাল সমাপ্তির পথে। খুব শীঘ্রই নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ণতা পাবে।
রিপোর্টারের নাম 






















