বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনকালকে জাতির জন্য “গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা-হামলা, গুম ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রোধে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে দৃঢ়ভাবে বলেন, এই অভিজ্ঞতা জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত ‘আয়নাঘর’ সৃষ্টি না হয় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর জন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়, বরং বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ও গভীর সংস্কার অপরিহার্য। এই উপলব্ধি থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের ১৬ বছরের নিপীড়ন এবং জুলাই মাসের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো জাতির মনে টাটকা। যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুদায়িত্ব।
তিনি জানান, বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে একাধিক ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এরই মধ্যে কয়েকটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও গুমের সংস্কৃতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















