দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্র— যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এই দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিকে কেবল সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক শক্তির একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বিশেষ করে, এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কভার (রেসিপরোকাল ট্যারিফ) ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা রফতানি বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশটির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে বাংলাদেশ এখন অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক্স, রেলওয়ে সরঞ্জাম এবং গ্রিন টেকনোলজির মতো উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি কমবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। মূলত জাপানে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা গ্রহণ করতে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছর বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণে দুই দেশ একমত হয়েছে, যার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে কেবল স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে রাখতে চায় না। বরং দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক একটি শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায়। তবে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন বাস্তবে রূপ দিতে হলে শিক্ষা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং সততার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























