বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিদায়ী ভাষণে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন এবং দেশের জন্য একটি নবদিগন্ত উন্মোচনের আশা প্রকাশ করলেন।
ভাষণে ড. ইউনূস ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, এই সনদের সফল বাস্তবায়ন ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনঃআবির্ভাবের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সনদটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কার্যকর হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের ভালো-মন্দ দিকগুলো হয়তো সময়ের সাথে সাথে বিস্মৃত হতে পারে, কিন্তু ‘জুলাই সনদ’ এবং এর পেছনে থাকা গণভোটের স্মৃতি জাতি কখনো ভুলবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সনদ প্রণয়ন এবং গণভোটে এটি পাশ করানোর পেছনে নিরলসভাবে কাজ করা সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
দেশের তরুণ প্রজন্মের অমিত সম্ভাবনাকে তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মগতভাবেই সাহসী, সৃজনশীল এবং উদ্যমী। তাদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ এবং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে মেধা, পরিশ্রম ও সততাকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হবে।
তিনি তাঁর মেয়াদের চ্যালেঞ্জগুলো স্মরণ করে বলেন, “আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, শুরু করেছি মাইনাস থেকে। ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তারপর সংস্কারের পথে হেঁটেছি।” অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়কে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা এবং অধিকার চর্চার একটি নবসূচনার দ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন এই ধারা অব্যাহত থাকে।
ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রদানের বিষয়টির উপর আলোকপাত করেন। যখন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন নাগরিকের গর্বিত ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা দেখেন, তখন একজন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি গভীর আনন্দ অনুভব করেন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক প্রবাসী এই প্রক্রিয়ায় নিশ্চিন্তে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তাঁর এই বিদায় কেবল একটি পদের অবসান নয়, বরং একটি নতুন সমাজ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
—
রিপোর্টারের নাম 





















