ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে এক আবেগঘন বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘ ১৮ মাসের দায়িত্ব পালন শেষে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে ৫ আগস্টকে ‘মহা মুক্তির দিন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সেই দিনটি ছিল পরম আনন্দের। কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরাও সেদিন খুশিতে আত্মহারা হয়ে চোখের পানি ফেলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অকুতোভয় তরুণ ছাত্রসমাজ দেশ ও জাতিকে এক ‘দৈত্যের গ্রাস’ থেকে মুক্ত করে এনেছিল।
ড. ইউনূস তখনকার কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্র পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল। সেই স্থবির রাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করাই ছিল নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতারা যখন তাঁকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান, তখন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। শুরুতে তিনি এই গুরুভার গ্রহণে কিছুটা দ্বিধান্বিত থাকলেও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা ও ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক অনুরোধে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে রাজি হন।
টানা ১৮ মাস অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন সময় এসেছে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার। ৫ আগস্টের সেই চেতনা ও দায়বদ্ধতাকে ধারণ করেই তাঁর সরকার রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থিতিশীলতার কাজ শুরু করেছিল। বিদায়লগ্নে তিনি দেশবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















