ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ম্লান সুষ্ঠু নির্বাচনের অর্জন: ভয়েস নেটওয়ার্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ বললেও, নির্বাচনের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতাকে এর সাফল্য ম্লান করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ভয়েস নেটওয়ার্ক। সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপনকালে জানান, দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায়। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা এই সাফল্যের ওপর কালিমা লেপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিজয়ী রাজনৈতিক দলসহ সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে কিছু অনিয়মও লক্ষ্য করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আইডি সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া, ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না এবং ২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য সুবিধার অভাব দেখা গেছে। ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাটতি এবং ১৫.৫ শতাংশ কেন্দ্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান এবং ব্যালট-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগও নথিবদ্ধ হয়েছে। এসব সত্ত্বেও, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভোট গণনা ও ফলাফল ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অস্পষ্টতা, যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতি এবং তথ্য সমন্বয়ে বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে, যা ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা ও আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কভারেজও সীমিত ছিল এবং পক্ষপাতমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সবশেষে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রায় ৪০টি জেলায় সহিংসতা, প্রাণহানি ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ও অর্জনকে মারাত্মকভাবে ম্লান করে দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ম্লান সুষ্ঠু নির্বাচনের অর্জন: ভয়েস নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ বললেও, নির্বাচনের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতাকে এর সাফল্য ম্লান করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ভয়েস নেটওয়ার্ক। সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।

ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপনকালে জানান, দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায়। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা এই সাফল্যের ওপর কালিমা লেপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিজয়ী রাজনৈতিক দলসহ সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে কিছু অনিয়মও লক্ষ্য করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আইডি সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া, ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না এবং ২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য সুবিধার অভাব দেখা গেছে। ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাটতি এবং ১৫.৫ শতাংশ কেন্দ্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জাল ভোট প্রদান এবং ব্যালট-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগও নথিবদ্ধ হয়েছে। এসব সত্ত্বেও, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভোট গণনা ও ফলাফল ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অস্পষ্টতা, যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতি এবং তথ্য সমন্বয়ে বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে, যা ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা ও আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কভারেজও সীমিত ছিল এবং পক্ষপাতমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সবশেষে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রায় ৪০টি জেলায় সহিংসতা, প্রাণহানি ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ও অর্জনকে মারাত্মকভাবে ম্লান করে দিয়েছে।