ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দেশজুড়ে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা, মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যানুসারে, নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় সারাদেশে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থাটি নির্বাচনের তিন দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

এমএসএফ তাদের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি রাষ্ট্রের কাছে এই ধরনের সহিংসতা দ্রুত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে এক শিশুকে তার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ার অভিযোগে সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও, ভোলার আব্দুর রহিম নামে একজন আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনের রাত থেকে নিখোঁজ রিকশাচালক মো. সোহাগ মিজির মরদেহ পরিত্যক্ত বালুর মাঠে উদ্ধার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদরে ভোট দিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর পুলিশের গুলিতে দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এমএসএফ-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের ২৬টি জেলায়, বিশেষ করে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত হামলায় প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

এই সহিংসতাগুলোর পাশাপাশি, একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী এই সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এমএসএফ। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের অপপ্রচার সহিংসতা আরও উসকে দিতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দেশজুড়ে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা, মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যানুসারে, নির্বাচন পরবর্তী এই সহিংসতায় সারাদেশে অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থাটি নির্বাচনের তিন দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

এমএসএফ তাদের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি রাষ্ট্রের কাছে এই ধরনের সহিংসতা দ্রুত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে এক শিশুকে তার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ার অভিযোগে সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও, ভোলার আব্দুর রহিম নামে একজন আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনের রাত থেকে নিখোঁজ রিকশাচালক মো. সোহাগ মিজির মরদেহ পরিত্যক্ত বালুর মাঠে উদ্ধার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদরে ভোট দিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর পুলিশের গুলিতে দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এমএসএফ-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের ২৬টি জেলায়, বিশেষ করে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংঘটিত হামলায় প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

এই সহিংসতাগুলোর পাশাপাশি, একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যালয় এবং কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী এই সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এমএসএফ। সংস্থাটি মনে করে, এ ধরনের অপপ্রচার সহিংসতা আরও উসকে দিতে পারে।