২০২৪ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলার পথে যে বাধাগুলো সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলো সমাধানে নজর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
আবু হোসেন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর উপর তিনি জোর দিয়েছেন, কারণ এই দাম বৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি কৃষকদের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, যদিও তারেক রহমানের সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের জন্য সঠিক মূল্য নির্ধারণ করেছিল, তবে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, শুকনো ধানের মন ১৪২০ টাকা এবং সিদ্ধ চালের কেজি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা মাঠ থেকে সংগৃহীত কাঁচা ধান ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করার কথা থাকলেও, ব্যাপারীরা তা সর্বোচ্চ ১১২০ টাকা পর্যন্ত কিনেছে। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষি পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদিত ফসলের দাম আরও কমে গেছে। তিনি সঠিকভাবে তদারকির অভাবকেও দায়ী করেছেন।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহরে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে, বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্যের ফলে তাদের আয় কমে গেছে। গ্যারেজ মালিকদের আয় বাড়লেও, নিম্ন আয়ের মানুষদের আয় আগের মতো নেই এবং ঢাকা শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সৌখিন এবং বিলাসী পণ্যের আমদানি কমিয়ে এবং যেগুলো অতি জরুরি নয় সে সমস্ত প্রকল্প বাতিল করে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রস্তাব করেন।
আবু হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সরকারের সফলতা তখনই প্রকাশ পাবে যখন একজন সাধারণ নাগরিক বলতে পারবে যে তারা শেখ হাসিনার শাসন আমলের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















