ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনগণকে এই সফল নির্বাচনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন ও আগামীর প্রত্যাশা: গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কো রুবিও তাঁর অভিনন্দন বার্তাটি প্রচার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলনেতা তারেক রহমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কো রুবিওর এই বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং আঞ্চলিক অভিন্ন লক্ষ্যগুলো (বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য) এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসও এক ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমানকে তাঁর ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে অংশীদারিত্ব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
জাতীয় সংহতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে জাতিসংঘের জোর: এদিকে, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক গত শুক্রবার নিউইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, “মহাসচিব বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক অংশীজনকে আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচনের এই গতি ধরে রেখে জাতীয় সংহতি জোরদার করতে। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”
জাতিসংঘের বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সব পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্পন্ন করার প্রতি বিশ্ব সংস্থাটি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট পেয়েছে। আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের এই ইতিবাচক অবস্থান নতুন সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 



















