ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে ভারতসহ প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মোদির ব্যস্ততা ও কূটনৈতিক কারণ: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এবং ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুম্বাইয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে মোদির। ওইদিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ভারত সফরে আসছেন এবং মুম্বাইয়ে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মাখোঁ এবং মোদি দিল্লিতে আয়োজিত চতুর্থ ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ (AI Impact Summit)-এ অংশ নেবেন। মাখোঁর এই সফর ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলায় একই সময়ে মোদির পক্ষে ঢাকা সফর করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিল্লির প্রতিনিধি কে হচ্ছেন? হিন্দুস্তান টাইমসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি রেজাউল এইচ লস্কর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সশরীরে আসতে না পারলেও ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর অথবা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণান দিল্লির হয়ে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের মুহূর্তে ভারত খুব দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে একটি সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।
ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি: সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে টেলিফোনে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ফোনালাপে তিনি একটি ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ভুক্ত প্রায় সব দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই মঞ্চে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি হতে পারে এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তারেক রহমান ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা জাতীয় স্বার্থ কেন্দ্রিক এবং কোনো বিশেষ দেশ নির্ভর নয়।
রিপোর্টারের নাম 






















