ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ডিসি অফিস ঘেরাও-বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

## ভোট পুনর্গণনার দাবিতে পাবনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা জোরদার

পাবনা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে।

বিক্ষোভকারী বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না’, ‘ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। তাদের এই বিক্ষোভের মুখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ, বিজিবি ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

এসময় পাবনা-৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন এবং পাবনা-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানান। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ করে চলে যান।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, বিক্ষোভকারীরা বিধিসম্মতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাবনা-৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের আগের রাতে ও ভোটগ্রহণের দিন তাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে, এজেন্টদের আটকে রাখা হয়েছে। তিনি পুনরায় ভোট গণনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একইভাবে পাবনা-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবও ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানিয়েছেন যে, দুই প্রার্থীর আবেদন নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেছে।

উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩,৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-৩ আসনে ৩,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমানে এই দুই আসনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিসিতে ৯৯ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ মার্চের মধ্যে

ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ডিসি অফিস ঘেরাও-বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## ভোট পুনর্গণনার দাবিতে পাবনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা জোরদার

পাবনা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে।

বিক্ষোভকারী বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না’, ‘ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। তাদের এই বিক্ষোভের মুখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ, বিজিবি ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

এসময় পাবনা-৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন এবং পাবনা-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানান। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেন যে, তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ করে চলে যান।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, বিক্ষোভকারীরা বিধিসম্মতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাবনা-৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের আগের রাতে ও ভোটগ্রহণের দিন তাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে, এজেন্টদের আটকে রাখা হয়েছে। তিনি পুনরায় ভোট গণনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

একইভাবে পাবনা-৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবও ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানিয়েছেন যে, দুই প্রার্থীর আবেদন নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেছে।

উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩,৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-৩ আসনে ৩,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমানে এই দুই আসনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।