ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়িতে বিজয়ী প্রার্থীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: নোয়াখালী-৪ আসনে সম্প্রীতির নজির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকারের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুরে অবস্থিত ইসহাক খন্দকারের বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এই मुलाकातকালে উভয় নেতা একে অপরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং কোলাকুলি করে মিষ্টিমুখ করেন। আগামীর দিনগুলোতে নোয়াখালীকে আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তাঁরা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মো. শাহজাহান দুই লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার এই আসনে এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট লাভ করেন।

বিজয়ী প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেন, “আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেছিলেন। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল এবং আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতায় বিশ্বাসী। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের মানুষ খুশি এবং আমরাও আনন্দিত। রাজনৈতিক ভিন্নতা ভুলে আমরা আগামীতে উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, “জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে আমি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর।”

এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, দেশের রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এমন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনর রশিদ আজাদ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত ভোটের মাঠ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলাফল ঘোষণার পর সকলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বিজয়ী প্রার্থী আলহাজ মো. শাহজাহানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সহনশীলতা, উদারতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিসিতে ৯৯ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ মার্চের মধ্যে

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়িতে বিজয়ী প্রার্থীর সৌজন্য সাক্ষাৎ: নোয়াখালী-৪ আসনে সম্প্রীতির নজির

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকারের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুরে অবস্থিত ইসহাক খন্দকারের বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এই मुलाकातকালে উভয় নেতা একে অপরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং কোলাকুলি করে মিষ্টিমুখ করেন। আগামীর দিনগুলোতে নোয়াখালীকে আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তাঁরা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মো. শাহজাহান দুই লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার এই আসনে এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট লাভ করেন।

বিজয়ী প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেন, “আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেছিলেন। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল এবং আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতায় বিশ্বাসী। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের মানুষ খুশি এবং আমরাও আনন্দিত। রাজনৈতিক ভিন্নতা ভুলে আমরা আগামীতে উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, “জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে আমি গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর।”

এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, দেশের রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এমন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনর রশিদ আজাদ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয় নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত ভোটের মাঠ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলাফল ঘোষণার পর সকলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বিজয়ী প্রার্থী আলহাজ মো. শাহজাহানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সহনশীলতা, উদারতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”