ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ঝালকাঠির রাজনীতিতে ইলেন ভুট্টোর চমক: গৃহবধূ থেকে যেভাবে হলেন দুইবারের এমপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সংসারের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই বাজিমাত করেছেন ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও ঝালকাঠির রাজনীতিতে তিনি এখন এক প্রভাবশালী নাম। ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, জনসমর্থন থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। এবারের নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

ইলেন ভুট্টোর রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা ছিল আকস্মিক। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের পুত্রবধূ তিনি। তাঁর স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন জাতীয় পার্টির তিনবারের সংসদ সদস্য। ২০০০ সালে স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর ঝালকাঠি-২ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে নামেন ইলেন ভুট্টো। তবে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর কাছে তিনি পরাজিত হন। হারলেও দমে যাননি তিনি। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং আমির হোসেন আমুকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সবাইকে চমকে দেন।

দীর্ঘ সময় দলের প্রতি অনুগত থাকার পুরস্কার হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি তাঁর ওপর আস্থা রাখে। যদিও দলীয় কোন্দল আর নানা অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা ছিল, তবুও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। এবারের নির্বাচনেও তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই বিজয় সারা দেশে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে বিজয়ী মাত্র সাতজন নারীর মধ্যে ইলেন ভুট্টো অন্যতম।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইলেন ভুট্টোর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তৃণমূলের সাথে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। জেলা বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা এবং প্রতিকূল সময়েও মাঠ না ছাড়ার মানসিকতাই তাঁকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

নিজের এই বিজয় সম্পর্কে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, “ঝালকাঠি ও নলছিটির সাধারণ মানুষ আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আমি তার প্রতিদান দিতে পেরেছি। আগামীতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিসিতে ৯৯ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ মার্চের মধ্যে

ঝালকাঠির রাজনীতিতে ইলেন ভুট্টোর চমক: গৃহবধূ থেকে যেভাবে হলেন দুইবারের এমপি

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংসারের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রেখেই বাজিমাত করেছেন ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও ঝালকাঠির রাজনীতিতে তিনি এখন এক প্রভাবশালী নাম। ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, জনসমর্থন থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। এবারের নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

ইলেন ভুট্টোর রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা ছিল আকস্মিক। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের পুত্রবধূ তিনি। তাঁর স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন জাতীয় পার্টির তিনবারের সংসদ সদস্য। ২০০০ সালে স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর ঝালকাঠি-২ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে নামেন ইলেন ভুট্টো। তবে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর কাছে তিনি পরাজিত হন। হারলেও দমে যাননি তিনি। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং আমির হোসেন আমুকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে সবাইকে চমকে দেন।

দীর্ঘ সময় দলের প্রতি অনুগত থাকার পুরস্কার হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি তাঁর ওপর আস্থা রাখে। যদিও দলীয় কোন্দল আর নানা অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা ছিল, তবুও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। এবারের নির্বাচনেও তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই বিজয় সারা দেশে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সারা দেশে বিজয়ী মাত্র সাতজন নারীর মধ্যে ইলেন ভুট্টো অন্যতম।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইলেন ভুট্টোর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তৃণমূলের সাথে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। জেলা বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা এবং প্রতিকূল সময়েও মাঠ না ছাড়ার মানসিকতাই তাঁকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

নিজের এই বিজয় সম্পর্কে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, “ঝালকাঠি ও নলছিটির সাধারণ মানুষ আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আমি তার প্রতিদান দিতে পেরেছি। আগামীতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”