ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে এক অভাবনীয় সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানের বাড়িতে গিয়ে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী রাজনীতির গতানুগতিক ধারা থেকে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে মতিউর রহমানের বাড়িতে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী’র স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে বিজয়ী প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান তাঁর গলায় থাকা বিজয়ের ফুলের মালা পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর গলায় পরিয়ে দেন, যা উপস্থিত সকলের মাঝে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান এই সৌজন্য সাক্ষাতের প্রশংসা করে বলেন, “নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা কাঙ্ক্ষিত ভোট পেয়েছি এবং মানুষ নিরাপদে আছে। আমাদের এই অঞ্চলে প্রায়শই দাঙ্গা-হাঙ্গামার নেতিবাচক প্রচলন দেখা যায়। আমি আশা করবো, বিজয়ী প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান শৈলকূপা তথা ঝিনাইদহের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন।”
বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান তাঁর সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন যেন অটুট থাকে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাবো।”
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। এই বড় ব্যবধানে বিজয়ের পর নির্বাচনী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তবে তার মাঝেও বিজয়ী প্রার্থীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















