ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও রোজার প্রভাবে গদখালীর ফুলবাজারে বড় দরপতন, চাষিরা দিশেহারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে যখন ফুল বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য থাকার কথা, ঠিক তখনই জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন রোজার প্রভাবে যশোরের গদখালী ফুলবাজারে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন দরপতন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের চাষিরা আশানুরূপ দাম না পেয়ে চরম হতাশায় দিন পার করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা।

শুক্রবার সরেজমিনে গদখালী ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলচাষিদের আনাগোনা থাকলেও ক্রেতাদের দেখা মিলছে হাতে গোনা। এর ফলে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গাঁদা, জিপসী ও চন্দ্রমল্লিকা সহ প্রায় সব ধরনের ফুলের দাম তলানিতে ঠেকেছে।

ফুলচাষি মহসিন আলীর ভাষ্যমতে, নির্বাচনের কারণে পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে পারেননি। ফলে যে ফুল এক সপ্তাহ আগেও দ্বিগুণ দামে বিক্রি হতো, তা এখন অর্ধেকেও বিক্রি হচ্ছে না। তিনি জানান, গোলাপ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭-৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-১৬ টাকা। গ্লাডিওলাস বিক্রি হচ্ছে ৬-১২ টাকায়, যার দাম আগে ছিল ২০-২৫ টাকা। রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা একশ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পানিসারা গ্রামের তবিবর রহমান জানান, ১২ কাঠা জমিতে গোলাপ চাষ করে তিনি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের আগে পাইকারি ক্রেতারা এসে ফুল না কেনায় এবং পরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়ে কম দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে।

হাড়িয়া গ্রামের ফুলচাষি শরিফ জানান, তাদের এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা না থাকায় ফুল বিক্রি করে টাকা আদায়েও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভ্যান বা রিকশায় করে ফুল পৌঁছে দেওয়ার পর টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করছে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, জাতীয় নির্বাচন ফুলবাজারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফুলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেবে।

যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিমThe initial article mentions that the flower market is expected to sell around 5 crore Taka worth of flowers this year, compared to 10-15 crore Taka last year. This indicates a significant drop. He further explained that the combined impact of the national election and the upcoming Ramadan is the primary reason for this decline.

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত ফুলের বাজারজাতকরণ নিয়ে এমন সংকট চাষিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চরভদ্রাসনে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীর দাবি অভিমান থেকে আত্মহত্যা

জাতীয় নির্বাচন ও রোজার প্রভাবে গদখালীর ফুলবাজারে বড় দরপতন, চাষিরা দিশেহারা

আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে যখন ফুল বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য থাকার কথা, ঠিক তখনই জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন রোজার প্রভাবে যশোরের গদখালী ফুলবাজারে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন দরপতন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের চাষিরা আশানুরূপ দাম না পেয়ে চরম হতাশায় দিন পার করছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন তারা।

শুক্রবার সরেজমিনে গদখালী ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলচাষিদের আনাগোনা থাকলেও ক্রেতাদের দেখা মিলছে হাতে গোনা। এর ফলে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গাঁদা, জিপসী ও চন্দ্রমল্লিকা সহ প্রায় সব ধরনের ফুলের দাম তলানিতে ঠেকেছে।

ফুলচাষি মহসিন আলীর ভাষ্যমতে, নির্বাচনের কারণে পাইকারি ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে পারেননি। ফলে যে ফুল এক সপ্তাহ আগেও দ্বিগুণ দামে বিক্রি হতো, তা এখন অর্ধেকেও বিক্রি হচ্ছে না। তিনি জানান, গোলাপ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭-৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-১৬ টাকা। গ্লাডিওলাস বিক্রি হচ্ছে ৬-১২ টাকায়, যার দাম আগে ছিল ২০-২৫ টাকা। রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৩-৫ টাকা, জারবেরা ৬-৮ টাকা, গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ২০০-৩০০ টাকা, জিপসী প্রতি আটি ৪০-৫০ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা একশ পিস ১৫০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পানিসারা গ্রামের তবিবর রহমান জানান, ১২ কাঠা জমিতে গোলাপ চাষ করে তিনি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের আগে পাইকারি ক্রেতারা এসে ফুল না কেনায় এবং পরিবহনের অভাবে বাধ্য হয়ে কম দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে।

হাড়িয়া গ্রামের ফুলচাষি শরিফ জানান, তাদের এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা না থাকায় ফুল বিক্রি করে টাকা আদায়েও তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভ্যান বা রিকশায় করে ফুল পৌঁছে দেওয়ার পর টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করছে।

ঝিকরগাছা ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, জাতীয় নির্বাচন ফুলবাজারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফুলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেবে।

যশোর জেলা ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিমThe initial article mentions that the flower market is expected to sell around 5 crore Taka worth of flowers this year, compared to 10-15 crore Taka last year. This indicates a significant drop. He further explained that the combined impact of the national election and the upcoming Ramadan is the primary reason for this decline.

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৬২৮ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত ফুলের বাজারজাতকরণ নিয়ে এমন সংকট চাষিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।