বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন পুনরুদ্ধার করেছেন। এই বিজয়ের ফলে আসনটি পুনরায় বিএনপির দখলে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একসময়ের বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবারের ফলাফল সেখানকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারাকেই প্রতিফলিত করেছে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই আসনে ধানের শীষের বাইরে অন্য কোনো প্রতীকের জয়ী হওয়া প্রায় অসম্ভব। এই মন্তব্যটি এ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আব্দুস সালাম আজাদ ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাজেদুল ইসলাম (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে. এম. বিল্লাল (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৮৭ ভোট। জাতীয় পার্টির মো. নোমান মিয়া (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৭ ভোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ (চেয়ার) পেয়েছেন ৬৫১ ভোট।
মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৩৩ ভোটারের এই আসনে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ২৩৯ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৪ জন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই।
নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে, বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে তাদের ভোটের ব্যবধান ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কে. এম. বিল্লাল (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. নোমান মিয়া (লাঙ্গল) এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আশিক মাহমুদ (চেয়ার) তাদের জামানত হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। বিজয়ী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এই বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। তবে, জোটগত সমঝোতার কারণে জামায়াতের এবিএম ফজলুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের আমিনুল ইসলাম তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সর্বশেষ, পাঁচজন প্রার্থী এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















