ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা-১১ আসনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নির্বাচনী উৎসবকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের মধ্যে ছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস।
তাসলিমা জাহান নামে একজন নবীন ভোটার নিজের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আমি অনেক আগেই ভোটার হয়েছি, কিন্তু এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছি। গতকাল থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম কখন ভোট দিতে আসতে পারব। এখানে এসে দেখলাম সবার মধ্যেই এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের পরিবারে সাতজন ভোটার। এতদিন ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। যাদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাদের কথা আমাদের মনে রাখা উচিত।”
মধ্যবয়সী ভোটার মুসলিমা বেগম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আজ ভোট দিতে এসে মনে হচ্ছে যেন কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। সবার মধ্যে কী আনন্দ! সবাই হাসিখুশি এবং মন খুলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন।” তিনি অতীতের ভোটদানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, “আগে ভোটের সময় এলেই এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করত, এই বুঝি খারাপ কিছু ঘটে যায়। কিন্তু এখন আর সেই ভয় নেই। আমরা এমন ভোটাধিকারই চাই।”
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন থেকে শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদসহ আরও আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-১১ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন। নারী ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে।
রিপোর্টারের নাম 























