ঢাকা-১৮ আসনের গুরুত্বপূর্ণ ও দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলো বিএনপি কর্মীরা ঘিরে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিব। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরা বি এন এস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরিফুল ইসলাম আদিব জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিতে শুরু করে। তার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকর্মীরা গলায় তারেক রহমান ও এস এম জাহাঙ্গীরের পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তিনি আরও বলেন, আব্দুল্লাহপুরের মালেকা বানু স্কুলে একজন ভোটার নিজের ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
আদিব অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে তার জোটের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাদের আবার কেন্দ্রে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়। কিন্তু এরপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তার আশঙ্কা, যেসব কেন্দ্রে বেশি ভোট এবং যেসব কেন্দ্র দূরে অবস্থিত, সেসব গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো বিএনপি কর্মীরা ঘিরে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদিব বলেন, “এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক আছে এবং এ নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু সন্ত্রাসীদের (বিএনপি কর্মীদের) এই তৎপরতার মধ্যে কীভাবে দূরের কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্সগুলো নিরাপদে নিয়ে আসা হবে, আমি এখন সেটা ভাবছি।” তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “সন্ত্রাসীদের জনগণ প্রতিহত করবে। আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব এবং কোনোভাবেই যেন ভোট প্রভাবিত না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনই এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১, ১৭ এবং ৪৩ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ আসনে সর্বমোট ২১৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৫ হাজার ৩৯৮ জন, যার মধ্যে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪ জন পুরুষ, ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৮ জন নারী এবং ছয়জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে মূলত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিব (শাপলাকলি প্রতীক) এবং বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























