ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পুলিশের কমিটি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচির (৬২) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের মসজিদের সামনে আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম ও শিবির নেতা মাহবুব বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন বলেন, ওই সেন্টারে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি। এ সময় বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মারা যান। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খুলনা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে দাঁড়িপাল্লার প্রচার চলছিল। এতে বাধা দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মহিফুজ্জামান কচি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে আলিয়া মাদ্রাসার ওই অধ্যক্ষ সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি সূত্র দাবি করছে, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের নেতা। তিনি এ কেন্দ্রের ভোটার নন। তিনি সকালে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে বিএনপি নেতারা আপত্তি তোলেন। এ থেকে উত্তেজনা বাড়ে। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। তিনি পরে গিয়ে অসুস্থ হন। হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতালে গিয়ে পরিদর্শন করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারালাম আমরা দাবি করছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ওই কেন্দ্রে  বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচির সঙ্গে ভোটারদের সাথে মতবিরোধ হয়। ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কেউ জড়িত নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোচের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ!

ভোটকেন্দ্রে বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পুলিশের কমিটি

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচির (৬২) মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের মসজিদের সামনে আলিয়া মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম ও শিবির নেতা মাহবুব বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন বলেন, ওই সেন্টারে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে শুনেছি। এ সময় বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মারা যান। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খুলনা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে দাঁড়িপাল্লার প্রচার চলছিল। এতে বাধা দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মহিফুজ্জামান কচি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে আলিয়া মাদ্রাসার ওই অধ্যক্ষ সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একটি সূত্র দাবি করছে, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের নেতা। তিনি এ কেন্দ্রের ভোটার নন। তিনি সকালে কেন্দ্রে প্রবেশ করলে বিএনপি নেতারা আপত্তি তোলেন। এ থেকে উত্তেজনা বাড়ে। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। তিনি পরে গিয়ে অসুস্থ হন। হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাসপাতালে গিয়ে পরিদর্শন করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে আমরা হারালাম আমরা দাবি করছি, এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ওই কেন্দ্রে  বিএনপি নেতা মহিফুজ্জামান কচির সঙ্গে ভোটারদের সাথে মতবিরোধ হয়। ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কেউ জড়িত নয়।