## প্রচারণার শেষলগ্নে লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর ব্যতিক্রমী কৌশল
লক্ষ্মীপুর: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শেষ সময়ে এসে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিম এক অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী মঙ্গলবার ভোরে ‘রান ইউথ রেজাউল করিম’ শীর্ষক এক দৌড় কর্মসূচির আয়োজন করেন।
ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই দৌড় কর্মসূচিটি উত্তর তেমুহনীতে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের এই সেক্রেটারি তার কর্মীদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দৌড়ে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রেজাউল করিম বলেন, “আমরা যেখানে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে প্রস্তুত, সেখানে কেউ কেউ বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ভালোবাসা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এই অপপ্রচেষ্টাকে পরাজিত করতে সক্ষম হব।” তিনি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি এবং সন্ত্রাসীদের আনাগোনা লক্ষ্মীপুরের শান্ত পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে। এখনো বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে নারী ও আমাদের কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা এ পর্যন্ত যে ভূমিকা পালন করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। তবে, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিকে নির্মূল করতে আপনাদের আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” তিনি সমাজে হত্যা, হুমকি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
রেজাউল করিম আরও অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন এলাকায় জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের কাছে খবর এসেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এই নির্বাচন যেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়, আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।” তিনি প্রশাসনের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই নতুন নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছি, সেই আদর্শের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেবো। যারা ‘না’ ভোটে রায় দেবে, তারা মূলত সেই মহান আন্দোলনের বিরোধী।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, যারা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করবে, তারা বাংলাদেশে কোনোদিনও জয়ী হতে পারবে না।
ভোটরদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, “আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে, হাতে হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে যাই এবং আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে হাসিমুখে ঘরে ফিরি।”
এই কর্মসূচিতে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, পৌর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী, শহর শিবিরের সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, সেক্রেটারি আবদুল আউয়াল হামদুসহ জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























