রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তার অভিযোগ, ঘটনার সময় ছয়জন পুলিশ সদস্য লাঠিচার্জে অংশ নিলেও অভিযোগপত্রে মাত্র একজনকে আসামি করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের পর সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং বেরোবির কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।
আইনজীবী দুলু বলেন, “আমরা যুক্তিতর্কে আমির হোসেন, সুজন ও আপেলের বেকসুর খালাস চেয়েছি। রেডিওগ্রাফিক বা এক্স-রে পরীক্ষায় আবু সাঈদের শরীরে গুলির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি তার গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পরা কালো টি-শার্টের জব্দ করা অংশেও কোনো ছিদ্র ছিল না বলে তদন্ত কর্মকর্তা জেরায় স্বীকার করেছেন। ফলে শুধুমাত্র গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফৌজদারি আইনে লাঠিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আবু সাঈদের হাতে লাঠি ছিল এবং তিনি সেটি দিয়ে পুলিশের আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা তদন্তকারী কর্মকর্তাও জেরায় স্বীকার করেছেন। আবু সাঈদকে নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ বেসামরিক নাগরিক হিসেবে ধরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে আনা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান এই আইনজীবী। তবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ’ হিসেবে আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে, এ বিষয়ে তার কোনো দ্বিমত নেই।
এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছি।”
রিপোর্টারের নাম 




















