ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফতুল্লায় আধিপত্যের বলি ‘কিলার বাবু’: ‘ন্যাড়া বাহিনীর’ প্রধানকে কুপিয়ে হত্যা, সহযোগী গুরুতর আহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে ‘কিলার বাবু’ (৩৮) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিটন (৩৮) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোররাতে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘কিলার বাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত লিটন ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘কিলার বাবু’ গ্রুপ এবং ‘নাঈম’ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ভোররাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবু ও লিটন মারাত্মকভাবে জখম হন। তাদের অন্য সহযোগীরা দ্রুত তাদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং খাস জায়গায় অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত ছাত্রনেতা রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে, জামিন পেলেন ৩ সহ-অভিযুক্ত

ফতুল্লায় আধিপত্যের বলি ‘কিলার বাবু’: ‘ন্যাড়া বাহিনীর’ প্রধানকে কুপিয়ে হত্যা, সহযোগী গুরুতর আহত

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে ‘কিলার বাবু’ (৩৮) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিটন (৩৮) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোররাতে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।

নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিতেন এবং তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘কিলার বাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত লিটন ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘কিলার বাবু’ গ্রুপ এবং ‘নাঈম’ গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ভোররাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবু ও লিটন মারাত্মকভাবে জখম হন। তাদের অন্য সহযোগীরা দ্রুত তাদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং খাস জায়গায় অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।