রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা দিনভর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। নিজেদের হিসাব থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন, মুনাফা থেকে ‘হেয়ারকাট’ বাতিলসহ নানা দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গত দুই বছর ধরে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা নিজেদের মূল আমানত ও অর্জিত মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অসংখ্য পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মূল দাবি হলো, ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া। এছাড়া, আমানতকারীরা যাতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারে এবং চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন ও জমা দিতে পারে, তার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তারা।
আমানতকারী ফজলুল রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাঁচ ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা ব্যাংকে আমানত রাখছি, আমরা কেন সরকারের অনুকম্পা নেবো? আমাদের ন্যায্য মুনাফা দিতে হবে।”
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বারবার অনুরোধ জানায়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সড়কে অবস্থান বজায় রাখলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। লাঠিচার্জ ও জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
দাবি পূরণ না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
মতিঝিল থানার একজন পরিদর্শক জানান, “বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বিঘ্নিত করছিলেন। তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 




















