আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তাবু খাটিয়ে বাঙ্কার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে সিটি গেট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও শাহ আমানত সেতুর মতো প্রবেশপথগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া নিউমার্কেট, কাস্টমস মোড়, বারিক বিল্ডিং ও কালুরঘাটসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও আরোহীদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে যান চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করে গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
তবে জরুরি সেবা ও বিশেষ প্রয়োজনীয় যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক, সংবাদমাধ্যম, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং দূরপাল্লার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার বৈধ অনুমতিপত্র ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। মহাসড়কগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল রাখা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাঁজোয়া যানসহ টহল জোরদার করেছে। বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে যানবাহনের লাইসেন্স, হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক বা কোনো নিষিদ্ধ মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে প্রতিটি যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এই কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 
























