আসন্ন নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের মনোনয়ন দেওয়াকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর জন্য চরম লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে কোনো চাঁদাবাজ বা ঋণখেলাপির ঠাঁই নেই।
সোমবার কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পক্ষে এই সমাপনী জনসভার আয়োজন করা হয়।
শাহজাহান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সারা দেশের মানুষ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ভয়ের সংস্কৃতি দূর হয়েছে। এখন আর ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণের রায়কে অন্য খাতে প্রবাহিত করা সম্ভব নয়।”
কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক। নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়ার সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, পেকুয়ায় একটি সরকারি কলেজ ও সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং চকরিয়ার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলো নিয়ে ‘মাতামুহুরী’ নামে একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
আব্দুল্লাহ আল ফারুক আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, চকরিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং লবণ চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি এলাকাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক মাওলানা আলী হাসান ওসামা, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, চকরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আবুল বশর এবং পেকুয়া উপজেলা আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিনসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাপনী এই জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























