একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯ দিনের নির্বাচনী সফরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা হয় সিলেট থেকে, যেখানে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দলীয় বার্তা নিয়ে জনগণের মাঝে উপস্থিত হন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় তারেক রহমান শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র দলের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। জনসভাগুলোতে তিনি দেশবাসীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। একই সাথে, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশ গঠনে তাঁর পরিকল্পনা এবং অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য অনুসরণ করে, তারেক রহমানও সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এটি তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা ছিল। এই ১৯ দিনের সফরে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও অনেক অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। জনসভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীককে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন, ২২ জানুয়ারি, তারেক রহমান সাতটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভা। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ সফর করেন। ২৩ জানুয়ারি তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক বিআরবি ময়দানে জনসভায় যোগ দেন। ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পলোগ্রাউন্ডে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেওয়ার পর, ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আরও কিছু জনসভায় বক্তব্য রাখেন। একদিন বিরতি দিয়ে ২৭ জানুয়ারি তিনি ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। সেখান থেকে ফেরার পথে গাজীপুর এবং সবশেষে ঢাকার উত্তরায় একটি জনসমাবেশে যোগ দেন।
২৯ জানুয়ারি, তারেক রহমান আকাশপথে উত্তরবঙ্গ সফর করেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বগুড়ায় তাঁর পৈতৃক ভিটিতে প্রথম পদার্পণ করেন। এরপর রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে রংপুরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। বগুড়ায় রাতযাপনের পর, ৩১ জানুয়ারি তিনি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে জনসভা করেন।
একদিন বিরতি দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি, তিনি খুলনা ও যশোরে নির্বাচনী সমাবেশ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি, হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছে তিনি নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এরপর ফরিদপুরে একটি জনসভায় অংশ নেন। সর্বশেষ, গত শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি দ্বিতীয় দফায় উত্তরবঙ্গ সফরে যান এবং ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী হয়ে দিনাজপুরে জনসভা করেন।
seu
রবি ও সোমবার, তারেক রহমান ঢাকার ১৫টি ভিন্ন স্থানে আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
—
রিপোর্টারের নাম 





















