ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনের পরিবেশ ইতিবাচক, স্বল্প মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আজ মাঠে: ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক এবং আজ থেকে মিশনের স্বল্প মেয়াদি (Short-term) পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠ পর্যায়ে তাঁদের কার্যক্রম শুরু করছেন।

ইতিবাচক পরিবেশ ও পর্যবেক্ষকদের তৎপরতা: ইভারস আইজাবস বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যদিও কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।” তিনি জানান, ইতিমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং আজ থেকে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন স্বল্প মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্য ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলেন, ইইউ বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। তিনি বিশেষ করে সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী এবং তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

মূল্যায়নের ভিত্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: মিশন প্রধান স্পষ্ট করেন যে, ইইউ কোনো ফলাফল প্রত্যয়ন করবে না, বরং তাঁরা একটি কারিগরি মূল্যায়ন প্রদান করবেন। এই মূল্যায়ন মূলত তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে— স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। ইভারস আইজাবস জানান, নির্বাচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ মিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে আইজাবস জানিয়েছিলেন, ইইউ বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে একটি ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারে মোসাদের গোপন তৎপরতা: দোহা অস্বীকার করলো অবগত থাকার তথ্য

নির্বাচনের পরিবেশ ইতিবাচক, স্বল্প মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আজ মাঠে: ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক

আপডেট সময় : ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক এবং আজ থেকে মিশনের স্বল্প মেয়াদি (Short-term) পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠ পর্যায়ে তাঁদের কার্যক্রম শুরু করছেন।

ইতিবাচক পরিবেশ ও পর্যবেক্ষকদের তৎপরতা: ইভারস আইজাবস বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যদিও কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।” তিনি জানান, ইতিমধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং আজ থেকে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন স্বল্প মেয়াদি পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্য ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলেন, ইইউ বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। তিনি বিশেষ করে সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী এবং তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

মূল্যায়নের ভিত্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: মিশন প্রধান স্পষ্ট করেন যে, ইইউ কোনো ফলাফল প্রত্যয়ন করবে না, বরং তাঁরা একটি কারিগরি মূল্যায়ন প্রদান করবেন। এই মূল্যায়ন মূলত তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে— স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। ইভারস আইজাবস জানান, নির্বাচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ মিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে আইজাবস জানিয়েছিলেন, ইইউ বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে একটি ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।