ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

তরুণ প্রজন্মের চোখে ভারত-বিরোধিতা: বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলো এখন নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রতিবাদী চেতনার ক্যানভাস। সেখানে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের গ্রাফিতি, যা কেবল শৈল্পিক প্রকাশ নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বার্তার বাহক। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিধ্বনি, যা মূলত জেনারেশন জেড বা জেন-জি-এর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল, তা এই গ্রাফিতিগুলোতে স্পষ্ট। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে এই তরুণ প্রজন্মের তীব্র অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শেখ হাসিনা শেষদিকে ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন, যা একসময় গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে পরিচিত একজন নেত্রীর পতন ডেকে আনে। ক্ষমতার মোহ এবং কর্তৃত্বের দাপট তাকে স্বৈরাচারী শাসকের আসনে বসিয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি করিডোরে চৈনিক নববর্ষের লাল লণ্ঠনের আলোয় ছাত্ররা উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্কে মগ্ন। আসন্ন নির্বাচন, যেখানে অনেকেরই প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ, তা তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, তার প্রধান দুই প্রতিবেশী – বেইজিং ও দিল্লি – উভয়েরই আধিপত্য বিস্তারের এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক খেলায় পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তার পতনের মাত্র তিন দিন পর, ৮ আগস্ট, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি শেখ হাসিনার শাসনামলের নৃশংস গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বিক্ষোভের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন, তাদের হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় এবং এই রায়ের পর তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। কিন্তু দিল্লি এই আবেদনে সাড়া দেয়নি।

দেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ, যা একসময় ৩০ শতাংশ ভোট পেত, তারা এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণ দেখিয়ে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছে বিএনপি। একসময়ের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন উদারনৈতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্রদের অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

তবে, কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগানই নয়, তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও সোচ্চার। “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা” – এই স্লোগানটি এখন কেবল মুখে মুখেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার দেয়াল ও নারীদের শাড়িতেও। তরুণদের মধ্যে ‘আধিপত্য’ নিয়ে প্রতিদিনের আলোচনা বাংলাদেশের ওপর ভারতের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র মোশাররফ হোসেন বিবিসিকে জানান, তরুণ প্রজন্ম মনে করে ভারত ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে, যে নির্বাচনকে তারা একতরফা বলে মনে করে।

এই অভিযোগের পেছনে দিল্লির ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ। এর ফলেই তরুণদের মধ্যে ভারত-বিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। একসময়ের প্রতিবেশী কূটনীতির মডেল হিসেবে পরিচিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন তীব্র বৈরিতায় রূপ নিয়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। লন্ডনের দ্য স্কুল অব অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী তীব্র মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যের কঠোরতা—এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে দিল্লি ঢাকায় বিপাকে পড়েছে।

অনেকের মতে, শেখ হাসিনার শেষ সময়ে ভারত তার কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী শাসনকে ক্রমাগত সমর্থন জুগিয়েছে। তাই ভারতকে বন্ধু নয়, বরং দাম্ভিক প্রতিবেশী হিসেবেই দেখছে এদেশের মানুষ। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে ভারতের ‘সমর্থন’ আজও তাদের স্মরণে রয়েছে। মোশাররফ হোসেনের মতে, ভারত কোনো প্রশ্ন ছাড়াই শেখ হাসিনার শাসনকে সমর্থন জুগিয়েছে, যা গণতন্ত্রের ধ্বংসের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে সমর্থনের ক্ষোভের সাথে যোগ হয়েছে পুরোনো বিবাদ – সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও টিভি চ্যানেলের উসকানিমূলক বক্তব্য। ফলে, বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে যে তাদের ভারতকে সমান সার্বভৌম প্রতিবেশী হিসেবে দেখা হয় না, বরং ‘পেছনের উঠোন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, ভারত কর্তৃক ভিসা সেবা স্থগিত করা ও বাংলাদেশের পাল্টা ব্যবস্থা, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (IPL) বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ স্থানান্তরে অস্বীকৃতি—এইসব ঘটনা বাংলাদেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তবে, দিল্লি ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দিল্লি এদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের সঙ্গে চারবার ভারতীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছে। তবুও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের শীতলতা কাটেনি।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এখন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবচেয়ে তলানিতে আছে। বর্তমান শীতলতা পূর্ববর্তী সংকটের সময়ও অদৃশ্য নিম্নস্তরের।” শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য প্রায় সব ফ্রন্ট – নিরাপত্তা সহযোগিতা, ট্রানজিট, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক – উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। কামাল আহমেদ আরও বলেন, “এখন কিছুই আর আগের জায়গায় নেই, যা জনগণ নয়—তাদের সদিচ্ছাও নয়।”

বিশেষ করে, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক বাংলাদেশি আশা করেছিলেন যে ভারত বাংলাদেশ নীতি পুনর্বিবেচনা করবে, যা প্রায় সম্পূর্ণরূপে একটি পক্ষকে সমর্থন করার ওপর ভিত্তি করে ছিল। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া এবং ভিসা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার মাধ্যমে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একমাত্রিক নয়, এটি বহুস্তরীয় ও বহুমাত্রিক। ভৌগোলিক বাস্তবতা আমাদের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। আমরা ৫৪টি নদী ভাগাভাগি করি, আমাদের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, ভাষা ও সংস্কৃতিতেও মিল রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত করে—এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।” তারপরও ভারত নিয়ে জনসাধারণের মনোভাব এখন তীব্রভাবে কঠোর হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশিদের জিজ্ঞেস করুন কেন তারা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে ভোট দিতে পারেননি? অনেকেই উত্তর দেন শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী আচরণ এবং তার প্রতি ভারতের ‘সমর্থন’। তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে সর্বদা সমর্থন করেছে ‘ভারত’। ২০২৪ সালের সহিংসতায় শত শত তরুণকে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাকে কার্যত একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরো গভীর করেছে। এই অনুভূতিটা খুবই বাস্তব এবং এটাকে উপেক্ষা করা যায় না।”

শফিকুল আলম ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণাকেও উদ্বেগজনক বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের দাবি “একটি বিশাল বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা”, যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, কিন্তু নিয়মিতভাবে ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম একে চিত্রিত করছে। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা এসে পরিদর্শন করুন, জনগণের সঙ্গে দেখা করুন এবং দেখুন আসলে কী ঘটেছিল।”

অন্যদিকে, ভারত বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৯০০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে তারা, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখল।

শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজ, যিনি বর্তমানে ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি মন্তব্য করেন যে, সম্পর্কটি ধীরে ধীরে “একটি দেশ-দেশ সম্পর্ক থেকে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্কে” পরিণত হয়েছিল। পানি ও সীমান্ত ইস্যু এই অসমতা আরো স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে, তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এই বিচ্ছেদ ভুল যোগাযোগের চেয়ে গভীরতর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়গুলো বিচ্ছিন্ন বিরক্তিকর ঘটনা নয়, বরং ভারসাম্যহীনতার প্রতীক। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “ভারত সরকার আমাদের বিরোধী হতে পারে, কিন্তু মানুষ তো মানুষই। ভারতের নাম শুনলেই আমার প্রথম অনুভূতি শত্রুতার। কিন্তু এই শত্রুতা মানুষের প্রতি নয়।” জুমা বলেন, তিনি একটি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় বেড়ে উঠেছেন, যেখানে আত্মীয়স্বজনরা সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে যান। “আমাদের দ্বন্দ্ব ভারত সরকার বা কাঠামোর সঙ্গে, ভারতীয় জনগণের সঙ্গে নয়।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “ভারত এই অঞ্চলের বড় রাষ্ট্র। কিন্তু দেশ যত বড় তার দায়িত্বও তত বেশি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব, কিন্তু সেটি হতে হবে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। কেবল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে বোঝাপড়া করে নয়—বরং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললেই পারস্পরিক আস্থা ফিরতে পারে।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “উভয় দেশের দায়িত্বের থাকা ব্যক্তিরা যদি আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেন, বর্তমান বাস্তবতা মেনে নেন এবং একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আচরণ করেন, তাহলে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক সম্ভব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে জামায়াতের মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন

তরুণ প্রজন্মের চোখে ভারত-বিরোধিতা: বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

আপডেট সময় : ১০:০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলো এখন নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রতিবাদী চেতনার ক্যানভাস। সেখানে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের গ্রাফিতি, যা কেবল শৈল্পিক প্রকাশ নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক বার্তার বাহক। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রতিধ্বনি, যা মূলত জেনারেশন জেড বা জেন-জি-এর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল, তা এই গ্রাফিতিগুলোতে স্পষ্ট। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে এই তরুণ প্রজন্মের তীব্র অসন্তোষ ফুটে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, শেখ হাসিনা শেষদিকে ক্রমশ কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন, যা একসময় গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে পরিচিত একজন নেত্রীর পতন ডেকে আনে। ক্ষমতার মোহ এবং কর্তৃত্বের দাপট তাকে স্বৈরাচারী শাসকের আসনে বসিয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি করিডোরে চৈনিক নববর্ষের লাল লণ্ঠনের আলোয় ছাত্ররা উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্কে মগ্ন। আসন্ন নির্বাচন, যেখানে অনেকেরই প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ, তা তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, তার প্রধান দুই প্রতিবেশী – বেইজিং ও দিল্লি – উভয়েরই আধিপত্য বিস্তারের এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক খেলায় পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তার পতনের মাত্র তিন দিন পর, ৮ আগস্ট, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি শেখ হাসিনার শাসনামলের নৃশংস গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বিক্ষোভের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিলেন, তাদের হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় এবং এই রায়ের পর তাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। কিন্তু দিল্লি এই আবেদনে সাড়া দেয়নি।

দেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ, যা একসময় ৩০ শতাংশ ভোট পেত, তারা এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণ দেখিয়ে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছে বিএনপি। একসময়ের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন উদারনৈতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্রদের অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

তবে, কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগানই নয়, তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও সোচ্চার। “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা” – এই স্লোগানটি এখন কেবল মুখে মুখেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার দেয়াল ও নারীদের শাড়িতেও। তরুণদের মধ্যে ‘আধিপত্য’ নিয়ে প্রতিদিনের আলোচনা বাংলাদেশের ওপর ভারতের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র মোশাররফ হোসেন বিবিসিকে জানান, তরুণ প্রজন্ম মনে করে ভারত ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে, যে নির্বাচনকে তারা একতরফা বলে মনে করে।

এই অভিযোগের পেছনে দিল্লির ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ। এর ফলেই তরুণদের মধ্যে ভারত-বিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। একসময়ের প্রতিবেশী কূটনীতির মডেল হিসেবে পরিচিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন তীব্র বৈরিতায় রূপ নিয়েছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। লন্ডনের দ্য স্কুল অব অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষক অবিনাশ পালিওয়াল মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী তীব্র মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যের কঠোরতা—এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে দিল্লি ঢাকায় বিপাকে পড়েছে।

অনেকের মতে, শেখ হাসিনার শেষ সময়ে ভারত তার কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী শাসনকে ক্রমাগত সমর্থন জুগিয়েছে। তাই ভারতকে বন্ধু নয়, বরং দাম্ভিক প্রতিবেশী হিসেবেই দেখছে এদেশের মানুষ। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে ভারতের ‘সমর্থন’ আজও তাদের স্মরণে রয়েছে। মোশাররফ হোসেনের মতে, ভারত কোনো প্রশ্ন ছাড়াই শেখ হাসিনার শাসনকে সমর্থন জুগিয়েছে, যা গণতন্ত্রের ধ্বংসের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে সমর্থনের ক্ষোভের সাথে যোগ হয়েছে পুরোনো বিবাদ – সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও টিভি চ্যানেলের উসকানিমূলক বক্তব্য। ফলে, বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে যে তাদের ভারতকে সমান সার্বভৌম প্রতিবেশী হিসেবে দেখা হয় না, বরং ‘পেছনের উঠোন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, ভারত কর্তৃক ভিসা সেবা স্থগিত করা ও বাংলাদেশের পাল্টা ব্যবস্থা, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (IPL) বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ স্থানান্তরে অস্বীকৃতি—এইসব ঘটনা বাংলাদেশে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তবে, দিল্লি ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দিল্লি এদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, গত এক বছরে তাদের সঙ্গে চারবার ভারতীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছে। তবুও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের শীতলতা কাটেনি।

সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের উপদেষ্টা সম্পাদক কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এখন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবচেয়ে তলানিতে আছে। বর্তমান শীতলতা পূর্ববর্তী সংকটের সময়ও অদৃশ্য নিম্নস্তরের।” শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য প্রায় সব ফ্রন্ট – নিরাপত্তা সহযোগিতা, ট্রানজিট, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক – উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। কামাল আহমেদ আরও বলেন, “এখন কিছুই আর আগের জায়গায় নেই, যা জনগণ নয়—তাদের সদিচ্ছাও নয়।”

বিশেষ করে, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক বাংলাদেশি আশা করেছিলেন যে ভারত বাংলাদেশ নীতি পুনর্বিবেচনা করবে, যা প্রায় সম্পূর্ণরূপে একটি পক্ষকে সমর্থন করার ওপর ভিত্তি করে ছিল। কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া এবং ভিসা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার মাধ্যমে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একমাত্রিক নয়, এটি বহুস্তরীয় ও বহুমাত্রিক। ভৌগোলিক বাস্তবতা আমাদের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। আমরা ৫৪টি নদী ভাগাভাগি করি, আমাদের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, ভাষা ও সংস্কৃতিতেও মিল রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত করে—এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।” তারপরও ভারত নিয়ে জনসাধারণের মনোভাব এখন তীব্রভাবে কঠোর হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশিদের জিজ্ঞেস করুন কেন তারা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে ভোট দিতে পারেননি? অনেকেই উত্তর দেন শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী আচরণ এবং তার প্রতি ভারতের ‘সমর্থন’। তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে সর্বদা সমর্থন করেছে ‘ভারত’। ২০২৪ সালের সহিংসতায় শত শত তরুণকে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তাকে কার্যত একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরো গভীর করেছে। এই অনুভূতিটা খুবই বাস্তব এবং এটাকে উপেক্ষা করা যায় না।”

শফিকুল আলম ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণাকেও উদ্বেগজনক বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের দাবি “একটি বিশাল বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা”, যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, কিন্তু নিয়মিতভাবে ধর্মীয় সহিংসতা হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম একে চিত্রিত করছে। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা এসে পরিদর্শন করুন, জনগণের সঙ্গে দেখা করুন এবং দেখুন আসলে কী ঘটেছিল।”

অন্যদিকে, ভারত বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৯০০টিরও বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে তারা, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখল।

শিক্ষাবিদ আলী রীয়াজ, যিনি বর্তমানে ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি মন্তব্য করেন যে, সম্পর্কটি ধীরে ধীরে “একটি দেশ-দেশ সম্পর্ক থেকে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক সম্পর্কে” পরিণত হয়েছিল। পানি ও সীমান্ত ইস্যু এই অসমতা আরো স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে, তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এই বিচ্ছেদ ভুল যোগাযোগের চেয়ে গভীরতর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়গুলো বিচ্ছিন্ন বিরক্তিকর ঘটনা নয়, বরং ভারসাম্যহীনতার প্রতীক। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “ভারত সরকার আমাদের বিরোধী হতে পারে, কিন্তু মানুষ তো মানুষই। ভারতের নাম শুনলেই আমার প্রথম অনুভূতি শত্রুতার। কিন্তু এই শত্রুতা মানুষের প্রতি নয়।” জুমা বলেন, তিনি একটি হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় বেড়ে উঠেছেন, যেখানে আত্মীয়স্বজনরা সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে যান। “আমাদের দ্বন্দ্ব ভারত সরকার বা কাঠামোর সঙ্গে, ভারতীয় জনগণের সঙ্গে নয়।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “ভারত এই অঞ্চলের বড় রাষ্ট্র। কিন্তু দেশ যত বড় তার দায়িত্বও তত বেশি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব, কিন্তু সেটি হতে হবে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। কেবল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে বোঝাপড়া করে নয়—বরং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললেই পারস্পরিক আস্থা ফিরতে পারে।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, “উভয় দেশের দায়িত্বের থাকা ব্যক্তিরা যদি আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেন, বর্তমান বাস্তবতা মেনে নেন এবং একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আচরণ করেন, তাহলে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক সম্ভব।”