সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গণিতের (a+b)2 সূত্র নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন! তিনি বলেছেন, (a+b)2 = a2+2ab+b2 এখানে, a2 , b2 ঠিক আছে কিন্তু মাঝখানের 2ab কোথা থেকে আসল? একজন দেখলাম এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি a2 এবং b2 কে বাংলাদেশ মিন করেছেন। আর 2ab বলতে পাকিস্তানকে বুঝিয়েছেন। সত্যি সত্যি জানিনা তিনি কোন অর্থে কথাটি বলেছেন। তবে গাণিত্যিক বিশ্লেষণে এটি এভাবেলেখা যায়, (a+b)2= (a+b) (a+b)=(a2 +ab+ba+b2)= a2+2ab+b2 .
বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের প্রমোশন পরীক্ষায় একবার এ ধরণের একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল, (a+b)2 = a2+2ab+b2 হলে (a+b)3= কি হবে? একজন কর্মচারী উত্তরে লিখেছিলেন, (a+b)3= a3+3ab+b3. তাঁকে অফিসে ডেকে জানতে চেয়েছিলাম, এটা কিভাবে লিখলেন? তিনি জানালেন, স্যার উপরের ফর্মূলায় যেখানে যেখানে ২ আছে সেখানে সেখানে ৩ বসিয়ে দিয়েছি। তাকে নম্বর দিতে পারিনি কিন্তু ধন্যবাদ দিতে ভূল করিনি। সঠিক উত্তরটিছিল, (a+b)3= a3+3a2b+3ab2+b3.
প্রফেসর ইমাম হোসাইন নামে গণিত বিভাগে আমাদের এক স্যার ছিলেন। পরীক্ষা হলে কোনো ছাত্র যদি বলত, স্যার বাথরুমে যাব। তিনি ছাত্রের হাত ধরে পালস পরীক্ষা করে বলতেন, তোমার প্রেসার নরমাল, যাও সিটে বসো। বেশীরভাগ ছাত্রই অনুপায় হয়ে সিটে বসতো। স্যারের প্রেসার মাপার পদ্ধতি নিয়ে বন্ধুমহলে আমরা অনেক হাসি-তামাসা করতাম। স্যারের যুক্তি ছিল, কারোর যদি সত্যি সত্যি বাথরুম পায়, তাহলে শরীরের অনু-পরমাণূগুলো দৌড়ঝাপ শুরু করবে, প্রেসার হু হু করে বেড়ে যাবে। স্যার কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়াতেন, তাই সব ব্যাখায় কোয়ান্টামের ছোয়া থাকতো।
প্রেসার বা চাপ নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে একটু জেনে নিই। বিজ্ঞানের ভাষায় চাপ = বল × ক্ষেত্রফল। অর্থাৎ চাপ হলো কোনো একক ক্ষেত্রের ওপর যে পরিমাণ বল কাজ করে, তা। আদর্শ গ্যাসের জন্য ১৬৬২ সালে বয়েলস দেখান যে, স্থির তাপমাত্রায় চাপ এবং আয়তনের গুণফল সব সময় স্থির থাকে। আবার চার্লস ১৬৭৮ সালে বলেন যে, আদর্শ গ্যাসের জন্য স্থির চাপে আয়তন হবে পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক। ফর্মূলাটি আমাদের দৈনিন্দন জীবনেও প্রয়োগ করা যায় এভাবে। একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে অন্যায় কাজে বা অযোগ্যকে মূল্যায়িত করতে যদি চাপ না থাকে (স্থির চাপে) তবে সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন (আয়তন) হবে মেধার (তাপমাত্রার) সমানুপাতিক। অথার্ৎ মেধার কদর বাড়লে দেশের উন্নয়ন বাড়বে। আর চাপ বাড়লে অযোগ্য মুল্যায়িত হবে, দেশ পিছিয়ে যাবে।
শিরোনামে ফিরি। বিশ্বকে বদলে দেয়া কয়েকটি বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো: বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ডিএনএ টেস্ট, চাঁদে মানুষ যাওয়া, পৃথিবীর ঘূর্ণন, রেডিয়াম আবিস্কার ইত্যাদি। এ গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কারগুলো মানব সভ্যতার গতিপথ চিরতরে বদলে দিয়েছে। ডিএনএ তেমনি এক আবিস্কার যার মাধ্যমে মা-বাবার বৈশিষ্ট্য সন্তানদের মধ্যে দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্প্রতি রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেয়া ১৪ বছরের বেবি বস বৈভবের গুজরাটের বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে ঝড় তোলে। রেকর্ড বুক হয়েছে ওলট-পালট। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও বৈভব এবং ফিফটি ছোঁয়াতেও আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ বৈভব। কিন্তু তার বয়স নিয়ে ছোট্ট একটা ঝামেলা হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে, তার বয়স আসলে ১৫। তবে তার বাবা এটা মানতে নারাজ। তিনি অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আমার ছেলের জন্মদিন বের করা হোক। আমি চাইনা আমার ছেলেকে নিয়ে কোনো পলিটিক্স হোক।
সত্যি সত্যি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আমরা অনেক অজানাকে জানতে পারি, রহস্য উন্মোচন এবং সমস্যার সমাধান করতে পারি। ১৯৫০-এর দশকে বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক ডিএনএ আবিস্কার করেন এবং ১৯৬২ সালে দ্বিসূত্রক ডিএনএর গঠন আবিস্কার করে তাঁরা দু’জন নোবেল পুরস্কার পান। তবে অনেকে মনে করেন, ১৮৬৯ সালে চিকিৎসক ফ্রিদরিশ মিশ্চার এটি প্রথম সনাক্ত করেন।
আরেকটি বিখ্যাত আবিস্কার হলো বিদ্যুৎ যা পৃথিবীর দ্বারকে উন্মোচন করেছে, সভ্যতাকে নিয়ে গেছে শেখড় থেকে শিখরে। এককভাবে বিদ্যুৎ আবিস্কারের পেছনে কারো অবদান না থাকলেও কয়েকজন মহান ব্যক্তিদের অবদান রয়েছে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গিলবার্টকে বিদ্যুতের জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম ইলেক্ট্রিক শব্দটির প্রচলন করেন। তবে এরও আগে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ও গ্রিক দার্শনিক থেলিস প্রথম বিদ্যুৎ নিয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ দেন। ১৯৩১ সালে মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিদ্যুৎ একপ্রকার শক্তি যা খালি চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়।
সম্প্রতি পৃথিবী ঠান্ডা করার মতো আরো একটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। যত দিন যাচ্ছে পৃথিবী তত উতপ্ত হচ্ছে, বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা আশার আলো দেখাচ্ছেন। বিশ্বের তাপমাত্রা কমাতে সূর্যের আলোর তীব্রতা কমানোর পাঁচ কোটি পাউন্ডের একটি প্রকল্প যুক্তরাজ্য সরকার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে যা বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ক্ষুদ্র কণা নিঃসরণের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করা হবে এবং নিম্ন স্তরে মেঘের প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য লবণের কণা স্প্রে করা হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে ১-২% সৌর বিকিরণ প্রতিফলত করতে পারলে পৃথিবীর তাপমাত্রা অনেকটা কমে আসবে।
১৮৯৮ সালে রেডিয়াম আবিস্কারে বিজ্ঞানীদের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণ হয়, রেডিয়াম দ্বারা ব্যাকটেরিয়া কলোনির মৃত্যু ঘটানো সম্ভব। একজন ইংরেজি চিকিৎসক তো রেডিয়াম সম্পর্কে লিখেই ফেললেন, এ যেন এক অজানা ঈশ্বর। প্রথম দিকে ক্যানসার, চর্মরোগসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে রিডিয়াম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি ঘড়ি, চুল, ত্বক, দাঁতে এর প্রলেপ লাগিয়ে আলোর আভা ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেকে একে ‘অমৃত’ কিংবা ‘পরশপাথর’ বলেও আখ্যায়িত করে। কিন্তু রেডিয়ামের ব্যবহারে এর তেজস্ক্রিয়তায় অনেকে আক্রান্ত হয়, মৃত্যবরণ করে। তাই যত্রতত্র এর ব্যবহারে বিধি-নিষিদ্ধকরণ করা হয়।
সম্প্রতি প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র দাস বিজ্ঞানী মেরি কুরির জীবনী ও তাঁর বিভিন্ন আবিষ্কার নিয়ে একটি বই লিখেছেন। বইটিতে উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব ঘটনা। এর আগেও আইজ্যাক নিউটনের জীবনী নিয়ে স্যার আরেকটি বই লিখেছেন। মেরি কুরি বিশ্বের একমাত্র কিংবদন্তী মহিলা বিজ্ঞানী যিনি বিজ্ঞানের দুটি শাখায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। একই পরিবারের পাঁচ জনের নোবেল পুরস্কার পাওয়া তাঁর পরিবারেই ঘটেছে। ভুবনবিখ্যাত বিজ্ঞানী মেরি কুরির জীবন ছিল বন্ধুরতায় ভরা। তবু তিনি হয়ে উঠেছিলেন পৃথিবীর সেরা একজন বিজ্ঞানী। বিষয়গুলো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র দাস তাঁর লেখা বইতে। তাই বইটি বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য হতে পারে আনন্দের এবং বিশেষ পাওয়া।
রিপোর্টারের নাম 

























