ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গুরুদাসপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু, আহত ২

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের গুরুদাসপুরে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত গভীর রাতে (সোমবার ভোর) ঝাউপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে দুই সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান মা আতিয়া বেগম (২২)। তার সঙ্গে মারা যায় এক বছর বয়সী মেয়ে রওজাও। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫টি বসতঘর, একটি মুদি দোকানসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের রান্টুর বাড়িতে গোয়ালঘরে রাখা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুতই আগুন রান্টুর বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। এ সময় রান্টুর স্ত্রী আতিয়া বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রথমে তিনি বড় ছেলে এলাহীকে (৯) টেনে বের করে আনতে সক্ষম হন। এরপর ছোট মেয়ে রওজাকে (১) বাঁচাতে আবারও ঘরে ঢোকেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তারা খাটের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়।

অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন রান্টুর মা মনেকা বেগম (৫৫)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহকর্তা রান্টুও সামান্য আহত হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মা-মেয়ের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহতদের জা আল্পনা বেগম জানান, আগুনে তাদের তিনটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর ও একটি রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী মিকজার আলী প্রামাণিকের মুদিদোকান ও তার একটি ঘর পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চালসহ ফসল, ১২টি ছাগল এবং ২টি গরুও আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও শুকনা খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়। ইউএনও জানান, পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

গুরুদাসপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু, আহত ২

আপডেট সময় : ০১:০৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত গভীর রাতে (সোমবার ভোর) ঝাউপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে দুই সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান মা আতিয়া বেগম (২২)। তার সঙ্গে মারা যায় এক বছর বয়সী মেয়ে রওজাও। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫টি বসতঘর, একটি মুদি দোকানসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের রান্টুর বাড়িতে গোয়ালঘরে রাখা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুতই আগুন রান্টুর বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। এ সময় রান্টুর স্ত্রী আতিয়া বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রথমে তিনি বড় ছেলে এলাহীকে (৯) টেনে বের করে আনতে সক্ষম হন। এরপর ছোট মেয়ে রওজাকে (১) বাঁচাতে আবারও ঘরে ঢোকেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তারা খাটের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই আগুনে পুড়ে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়।

অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন রান্টুর মা মনেকা বেগম (৫৫)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহকর্তা রান্টুও সামান্য আহত হয়েছেন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মা-মেয়ের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহতদের জা আল্পনা বেগম জানান, আগুনে তাদের তিনটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর ও একটি রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী মিকজার আলী প্রামাণিকের মুদিদোকান ও তার একটি ঘর পুড়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চালসহ ফসল, ১২টি ছাগল এবং ২টি গরুও আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও শুকনা খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়। ইউএনও জানান, পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সহযোগিতা করা হবে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।