ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনের বাঘ রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ, বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে মোংলায় আলোচনা সভা

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী বাজারে ‘সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একসময় বাংলাদেশের ১৭টি জেলার মধ্যে ১১টিতে বাঘের বিচরণ থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে এসেছে। গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে যেখানে প্রায় এক লাখ বাঘের অস্তিত্ব ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র আটটি দেশে চার হাজারের কাছাকাছি বাঘ টিকে আছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতা বিশ্বব্যাপী বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ রুস্তুম আলী, গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম. রেজাউল ইসলাম, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, ছাত্রনেতা মঈন গাজী, আরাফাত দূর্জয়, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাঘ চোরাচালান চক্র এখনও সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। তারা বাঘ হত্যা করে দেহের বিভিন্ন অংশ বিদেশে পাচার করছে। এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বন পাহারা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় গর্ব, সাহস ও শক্তির প্রতীক। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই এই অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

আলোচনা সভার পূর্বে মিঠাখালী ও চাঁদপাই বাজার এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। তারা বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

দিবসটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মিঠাখালী মাঠে বাঘ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে আরও কর্মসূচি পালিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লটকন চাষে স্বপ্নপূরণ: নরসিংদীর আক্তার হোসেনের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

সুন্দরবনের বাঘ রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ, বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে মোংলায় আলোচনা সভা

আপডেট সময় : ০২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী বাজারে ‘সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একসময় বাংলাদেশের ১৭টি জেলার মধ্যে ১১টিতে বাঘের বিচরণ থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে এসেছে। গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে যেখানে প্রায় এক লাখ বাঘের অস্তিত্ব ছিল, সেখানে বর্তমানে মাত্র আটটি দেশে চার হাজারের কাছাকাছি বাঘ টিকে আছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতা বিশ্বব্যাপী বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ রুস্তুম আলী, গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম. রেজাউল ইসলাম, পরিবেশকর্মী নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, ছাত্রনেতা মঈন গাজী, আরাফাত দূর্জয়, পরিবেশযোদ্ধা মেহেদী হাসান এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাঘ চোরাচালান চক্র এখনও সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। তারা বাঘ হত্যা করে দেহের বিভিন্ন অংশ বিদেশে পাচার করছে। এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বন পাহারা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় গর্ব, সাহস ও শক্তির প্রতীক। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই এই অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

আলোচনা সভার পূর্বে মিঠাখালী ও চাঁদপাই বাজার এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। তারা বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

দিবসটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মিঠাখালী মাঠে বাঘ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে আরও কর্মসূচি পালিত হয়।