ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ভোট ডিউটিতে আনসার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম: রংপুরজুড়ে অর্থবাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, গংগাচড়া এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য, অনভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রকৃত আনসার সদস্যরা। আনসার ভিডিপি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন এবং স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আনসার ভিডিপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ভোট ডিউটির জন্য আনসার ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা তা মানেননি। বরং ইউনিয়ন দলনেতাদের যোগসাজশে ইচ্ছামতো পছন্দের লোকজনের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়ে ভোট ডিউটির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে অন্যের সনদ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে অনভিজ্ঞদেরও ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এমনকি যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকের) পক্ষে ভোট করেছিলেন, তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলার আনসার ভিডিপির লিলি, আমেনা সাবেরা, রওশনারা, রিয়াদ, আনজুয়ারা, সুমি ও মামুনসহ অসংখ্য সদস্য জানান, পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন রানা দলনেতা নুর ইসলাম, সাহাদুল, রোজিনা, বেলাল, আল আমিনসহ অন্যান্য দলনেতাদের মাধ্যমে ভোট ডিউটি করার জন্য দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। সদর দপ্তর থেকে যাদেরকে ডিউটির জন্য এসএমএস করা হয়েছিল, তাদের পাশাপাশি যাদের সনদ ছিল না, বিশেষ করে চৌধুরানী এলাকার রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের সনদ ব্যবহার করে ডিউটিতে নেওয়া হয়েছে। পীরগাছা ইউনিয়ন দলনেতা নুর ইসলাম প্রকাশ্যে উপজেলা অফিসারের নাম ভাঙিয়ে ভোট ডিউটির জন্য আনসার ভিডিপি সদস্য ছাড়াও অন্যদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এছাড়া, উপজেলা কর্মকর্তার সদর দপ্তরের এসএমএস প্রাপ্ত সদস্যদের যাচাই-বাছাই করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। দলনেতাদের কথায় তিনি লোক নিয়োগ করেছেন। প্রকৃত আনসার সদস্যরা মনে করেন, ডিজির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে যোগ্যরাই এবার সুযোগ পেত।

আমিনুল ইসলাম ও রাকিবুল নামের দুই আনসার সদস্য বলেন, প্রকাশ্যে দলনেতারা ভোট ডিউটির জন্য অর্থ নেওয়ায় তারা প্রতিবাদ করলে পীরগাছা উপজেলা জননেতা নুর ইসলাম তাদের ভয়-ভীতি দেখান। বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তাদের সনদ আটক করে রাখেন এবং আজ পর্যন্ত ফেরত দেননি। তারা আরও অভিযোগ করেন, যারা টাকা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এসএমএসের কোনো বালাই ছিল না; বেশি টাকা দিলেই অন্যের নাম কেটে তাদের নামে ডিউটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পীরগাছা ইউনিয়নের দলনেতা নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অনেক পুরাতন দলনেতা। আমার কথা অবশ্যই উপজেলা অফিসার শোনেন। আমাদের অনেক খরচ হয়। অফিসারদের বিষয়গুলো আমাদেরকে দেখতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেকে আমাদেরকে চা নাস্তা খাওয়ান। তবে সদস্যরা যত বেশি টাকার কথা বলেছেন, এমন কিছু আমরা করি না।”

পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন রানা বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই অনেকের সাথে আমার চেনা জানা নেই। তাছাড়াও সদর দপ্তর থেকে যাদেরকে এসএমএস করেছিল, তাদের মধ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে। এখানে যদি ইউনিয়ন দলনেতারা কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” যাচাই-বাছাই না করা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ডিউটিতে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইউনিয়ন দলনেতাদের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে ভোট ডিউটিতে সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার গোলাম আজম বলেন, “আমরা দলনেতাদের মাধ্যমে সদস্যদের ডেকে যাচাই-বাছাই করেছি। তারপরেও কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে, সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমাকে দিলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।”

আনসার ভিডিপি টিআই নাসিমুল ফেরদৌস বলেন, “সদর দপ্তরের এসএমএস অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি, সেক্ষেত্রে সবাইকে নেওয়া সম্ভব নয়। এখান থেকে বাছাই করে যারা ডিউটি করতে সক্ষম, তাদেরকেই নেওয়ার নিয়ম। যদি কোনো উপজেলা অফিসার সঠিক মতো বাছাই না করে জননেতাদের কথায় লোক নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা তারা ভুল করেছে।”

রংপুর জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, “যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, এ বিষয়ে অফিসারদের ডিজি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরেও কয়েকটি উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কানে এসেছে। বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিদর্শক (রংপুর বিভাগীয় রেঞ্জ পরিচালক) আব্দুল আউয়াল বলেন, “আনসার ভিডিপির সনদধারী সদস্যদের সদর দপ্তর থেকে ডিউটি করবে কি করবে না, এই মর্মে একটি করে এসএমএস দেওয়া হয়েছিল। যারা ডিউটি করতে ইচ্ছুক, তারা ওকে করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাচাই-বাছাই করে যারা ভোট ডিউটি করতে সক্ষম, তাদেরকেই নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখানে কৌশল করে ইউনিয়ন দলনেতারা কিছু অনিয়ম করে থাকতে পারেন, যা হয়তো উপজেলা অফিসাররা ধরতে পারেননি। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সামান্যতম কোনো ত্রুটি পেলে কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন দলনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজদের তালিকা করছে পুলিশ: নাম কাটাতে ৫-২০ লাখ টাকা ঘুষের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ভোট ডিউটিতে আনসার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম: রংপুরজুড়ে অর্থবাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, গংগাচড়া এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য, অনভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রকৃত আনসার সদস্যরা। আনসার ভিডিপি সদর দপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন এবং স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আনসার ভিডিপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ভোট ডিউটির জন্য আনসার ভিডিপির সদর দপ্তর থেকে নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তারা তা মানেননি। বরং ইউনিয়ন দলনেতাদের যোগসাজশে ইচ্ছামতো পছন্দের লোকজনের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়ে ভোট ডিউটির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে অন্যের সনদ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে অনভিজ্ঞদেরও ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এমনকি যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকের) পক্ষে ভোট করেছিলেন, তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলার আনসার ভিডিপির লিলি, আমেনা সাবেরা, রওশনারা, রিয়াদ, আনজুয়ারা, সুমি ও মামুনসহ অসংখ্য সদস্য জানান, পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন রানা দলনেতা নুর ইসলাম, সাহাদুল, রোজিনা, বেলাল, আল আমিনসহ অন্যান্য দলনেতাদের মাধ্যমে ভোট ডিউটি করার জন্য দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। সদর দপ্তর থেকে যাদেরকে ডিউটির জন্য এসএমএস করা হয়েছিল, তাদের পাশাপাশি যাদের সনদ ছিল না, বিশেষ করে চৌধুরানী এলাকার রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের সনদ ব্যবহার করে ডিউটিতে নেওয়া হয়েছে। পীরগাছা ইউনিয়ন দলনেতা নুর ইসলাম প্রকাশ্যে উপজেলা অফিসারের নাম ভাঙিয়ে ভোট ডিউটির জন্য আনসার ভিডিপি সদস্য ছাড়াও অন্যদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এছাড়া, উপজেলা কর্মকর্তার সদর দপ্তরের এসএমএস প্রাপ্ত সদস্যদের যাচাই-বাছাই করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। দলনেতাদের কথায় তিনি লোক নিয়োগ করেছেন। প্রকৃত আনসার সদস্যরা মনে করেন, ডিজির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে যোগ্যরাই এবার সুযোগ পেত।

আমিনুল ইসলাম ও রাকিবুল নামের দুই আনসার সদস্য বলেন, প্রকাশ্যে দলনেতারা ভোট ডিউটির জন্য অর্থ নেওয়ায় তারা প্রতিবাদ করলে পীরগাছা উপজেলা জননেতা নুর ইসলাম তাদের ভয়-ভীতি দেখান। বিষয়টি উপজেলা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তাদের সনদ আটক করে রাখেন এবং আজ পর্যন্ত ফেরত দেননি। তারা আরও অভিযোগ করেন, যারা টাকা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এসএমএসের কোনো বালাই ছিল না; বেশি টাকা দিলেই অন্যের নাম কেটে তাদের নামে ডিউটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পীরগাছা ইউনিয়নের দলনেতা নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অনেক পুরাতন দলনেতা। আমার কথা অবশ্যই উপজেলা অফিসার শোনেন। আমাদের অনেক খরচ হয়। অফিসারদের বিষয়গুলো আমাদেরকে দেখতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেকে আমাদেরকে চা নাস্তা খাওয়ান। তবে সদস্যরা যত বেশি টাকার কথা বলেছেন, এমন কিছু আমরা করি না।”

পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন রানা বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই অনেকের সাথে আমার চেনা জানা নেই। তাছাড়াও সদর দপ্তর থেকে যাদেরকে এসএমএস করেছিল, তাদের মধ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে। এখানে যদি ইউনিয়ন দলনেতারা কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” যাচাই-বাছাই না করা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ডিউটিতে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইউনিয়ন দলনেতাদের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে ভোট ডিউটিতে সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার গোলাম আজম বলেন, “আমরা দলনেতাদের মাধ্যমে সদস্যদের ডেকে যাচাই-বাছাই করেছি। তারপরেও কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে, সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমাকে দিলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।”

আনসার ভিডিপি টিআই নাসিমুল ফেরদৌস বলেন, “সদর দপ্তরের এসএমএস অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি, সেক্ষেত্রে সবাইকে নেওয়া সম্ভব নয়। এখান থেকে বাছাই করে যারা ডিউটি করতে সক্ষম, তাদেরকেই নেওয়ার নিয়ম। যদি কোনো উপজেলা অফিসার সঠিক মতো বাছাই না করে জননেতাদের কথায় লোক নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা তারা ভুল করেছে।”

রংপুর জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, “যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, এ বিষয়ে অফিসারদের ডিজি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরেও কয়েকটি উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ কানে এসেছে। বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিদর্শক (রংপুর বিভাগীয় রেঞ্জ পরিচালক) আব্দুল আউয়াল বলেন, “আনসার ভিডিপির সনদধারী সদস্যদের সদর দপ্তর থেকে ডিউটি করবে কি করবে না, এই মর্মে একটি করে এসএমএস দেওয়া হয়েছিল। যারা ডিউটি করতে ইচ্ছুক, তারা ওকে করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাচাই-বাছাই করে যারা ভোট ডিউটি করতে সক্ষম, তাদেরকেই নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখানে কৌশল করে ইউনিয়ন দলনেতারা কিছু অনিয়ম করে থাকতে পারেন, যা হয়তো উপজেলা অফিসাররা ধরতে পারেননি। আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সামান্যতম কোনো ত্রুটি পেলে কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন দলনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”