ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নাহিদের অঙ্গীকার: সিন্ডিকেটমুক্ত, জনবান্ধব বাজার ব্যবস্থা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশে একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

ভাষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের মূল্য প্রায়শই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যার পেছনে রয়েছে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি শক্তিশালী দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র। এই চক্র বাজারকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

এনসিপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। এমন দুষ্টু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি ও অবৈধ মজুতদারির প্রমাণ মিললে অপরাধীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা তোলা ছাড়াই তাদের শস্য ও কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরাও যেন কোথাও এক টাকাও অতিরিক্ত দিতে বাধ্য না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। এই পদক্ষেপগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা গেলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

নাহিদ ইসলাম জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সুলভে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্যের বাজার ব্যবস্থা এবং খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া, কোনো একটি বৃহৎ দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে একাধিক বিকল্প উৎস থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো হবে, যাতে কোনো একক দেশ পণ্যের জোগান নিয়ে আমাদের জিম্মি করতে না পারে।

বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সমর্থন দেওয়া হবে। কাঁচাপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থার প্রচলন এবং দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পরিবহন ব্যয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মৌসুমি পণ্যের জন্য সরকারিভাবে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করে পণ্য কিনে তা মজুত করা হবে, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রামগড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত কলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

নাহিদের অঙ্গীকার: সিন্ডিকেটমুক্ত, জনবান্ধব বাজার ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশে একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

ভাষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের মূল্য প্রায়শই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, যার পেছনে রয়েছে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি শক্তিশালী দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র। এই চক্র বাজারকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

এনসিপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। এমন দুষ্টু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি ও অবৈধ মজুতদারির প্রমাণ মিললে অপরাধীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা তোলা ছাড়াই তাদের শস্য ও কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরাও যেন কোথাও এক টাকাও অতিরিক্ত দিতে বাধ্য না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। এই পদক্ষেপগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা গেলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

নাহিদ ইসলাম জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সুলভে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্যের বাজার ব্যবস্থা এবং খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া, কোনো একটি বৃহৎ দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে একাধিক বিকল্প উৎস থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানো হবে, যাতে কোনো একক দেশ পণ্যের জোগান নিয়ে আমাদের জিম্মি করতে না পারে।

বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সমর্থন দেওয়া হবে। কাঁচাপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থার প্রচলন এবং দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পরিবহন ব্যয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মৌসুমি পণ্যের জন্য সরকারিভাবে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করে পণ্য কিনে তা মজুত করা হবে, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।