কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলে অংশ নেওয়ায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মারধরের শিকার শিশু সাজ্জাদ হোসেন বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। সে ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাজাহানের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, শিশুটিকে মারধরকারী আব্দুল কাইয়ুম একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে এবং তিনি বিএনপির একজন সমর্থক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাধবপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেনের উপস্থিতিতে একটি উঠান বৈঠক চলছিল। বৈঠক শুরুর পর প্রায় ৩০ গজের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রচারণার মাইক বারবার বাজানো হচ্ছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হলেও কিছু সময় পরপর একই স্থানে মাইক বাজানো হয়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. কবির হোসেন জানান, উঠান বৈঠক চলাকালে বিএনপির প্রচারের মাইক বারবার বৈঠকের আশপাশে অবস্থান করে প্রচার চালাচ্ছিল, যা তাদের কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায়। তাদের অনুরোধে মাইক বন্ধ করা হলেও কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যুবক এসে আবার মাইক বাজাতে শুরু করে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতের মিছিল আসার সময় মিছিলে থাকা একটি শিশুকে ধরে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মারধরের শিকার শিশু সাজ্জাদ হোসেন জানায়, “আমি মিছিলে যাচ্ছিলাম। তখন কাইয়ুমসহ তিনজন বলে, ‘জামায়াতের মিছিলে কেন আইছত’—এই কথা বলে আমাকে লাথি মারে। পরে ধরে নিয়ে আবার মারধর করে। আমি কান্নাকাটি করলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।”
উঠান বৈঠক শেষে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন বলেন, মাধবপুরে উঠান বৈঠক করতে গেলে স্থানীয় যুবকরা তাদের স্বাগত জানায়। কিন্তু বিএনপির প্রচারণার মাইক বারবার তাদের বৈঠকের পাশে বাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। তিনি আরও বলেন, “একটি ছোট শিশু ‘দাঁড়িপাল্লা’র (জামায়াতের প্রতীক) পক্ষে স্লোগান দিয়েছে—এই কারণে তার ওপর হামলা চালানো রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। শিশুদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “ঘটনার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।”
রিপোর্টারের নাম 

























