বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও প্রশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রোববার রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৬ আসনের জনগণের উদ্দেশে আয়োজিত এই সভায় তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বিগত ১৬ বছরের উন্নয়নের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গত দেড় দশকে দেশে অসংখ্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং এসব প্রকল্পের আড়ালে নজিরবিহীন ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। গত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সময় এখন সমাগত।’
আগামী ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। জনগণের সিদ্ধান্তই বলে দেবে আগামী দিনে কারা দেশ পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল বিরোধীদের বিষোদগার করে জনগণের কোনো লাভ হবে না। বরং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
ঢাকা-১৬ আসনের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া যারা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করবে বিএনপি সরকার।
রাজধানীর নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে তার পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা ও পানি সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকার খালগুলো খনন করা হবে। এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। একই সাথে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি ‘দেশ আগে’ এই মন্ত্রে সবাইকে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 

























