ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ এবং শুল্ক হ্রাস নিয়ে আশাবাদী উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। এই পদে পূর্বে ২২ জন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত বছরের ২৬ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান শেখ বশিরউদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর এই দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে কিছু মহলে সমালোচনা শুরু হলে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শেখ বশিরউদ্দীন। আগামী ৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য চুক্তিকে সামনে রেখে শুল্ক হ্রাসের ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। তবে এই মুহূর্তে শুল্ক কতটা কমবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি।

শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত। তাদের কাছে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টি সচল রয়েছে, বাকিগুলো উড়মাড়ো। এই পরিস্থিতিতে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ জরুরি। তিনি জানান, বোয়িং এবং এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বোয়িংয়ের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাটতি কমানোর জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ ক্রয়ের মূল্যমান প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এই ক্রয়াদেশের ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, এয়ার টিকিটের সিন্ডিকেট ও টিকিট ব্লকিং রোধে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের মূল্য নিয়ন্ত্রণে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ঢাকা-জেদ্দা রুটের টিকিটের মূল্য যেখানে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ছিল, তা বর্তমানে ৫৩-৬০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। হজ যাত্রীদের টিকিটের মূল্যও আগের মৌসুমের তুলনায় ৫৪ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে।

সচিব আরও জানান, এ বছর হজ ফ্লাইটের ফিরতি পথগুলো খালি না রেখে নিয়মিত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। এর ফলে স্বল্পমূল্যে টিকিট বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দেবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার নীতিমালায় অসংগতি দূর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো আপস না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত প্রতিপালন হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং টিম গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিপরীতে সচিব স্পষ্ট করেন যে, ইজারা প্রদানের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীভূত করা হয়নি, বরং বেবিচকের চেয়ারম্যানকেই এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করা হয়েছে।

বিমান সচিব জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরও চারটি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। তাই নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন না করলে বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হবে এবং নতুন রুট চালু করাও কঠিন হবে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ এবং শুল্ক হ্রাস নিয়ে আশাবাদী উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। এই পদে পূর্বে ২২ জন মন্ত্রী এবং উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত বছরের ২৬ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান শেখ বশিরউদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর এই দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে কিছু মহলে সমালোচনা শুরু হলে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শেখ বশিরউদ্দীন। আগামী ৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য চুক্তিকে সামনে রেখে শুল্ক হ্রাসের ব্যাপারে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। তবে এই মুহূর্তে শুল্ক কতটা কমবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি।

শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত। তাদের কাছে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টি সচল রয়েছে, বাকিগুলো উড়মাড়ো। এই পরিস্থিতিতে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ জরুরি। তিনি জানান, বোয়িং এবং এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বোয়িংয়ের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাটতি কমানোর জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ ক্রয়ের মূল্যমান প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এই ক্রয়াদেশের ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, এয়ার টিকিটের সিন্ডিকেট ও টিকিট ব্লকিং রোধে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়েছে। এর ফলে টিকিটের মূল্য নিয়ন্ত্রণে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ঢাকা-জেদ্দা রুটের টিকিটের মূল্য যেখানে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ছিল, তা বর্তমানে ৫৩-৬০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। হজ যাত্রীদের টিকিটের মূল্যও আগের মৌসুমের তুলনায় ৫৪ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে।

সচিব আরও জানান, এ বছর হজ ফ্লাইটের ফিরতি পথগুলো খালি না রেখে নিয়মিত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। এর ফলে স্বল্পমূল্যে টিকিট বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ করে দেবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার নীতিমালায় অসংগতি দূর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো আপস না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত প্রতিপালন হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং টিম গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিপরীতে সচিব স্পষ্ট করেন যে, ইজারা প্রদানের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীভূত করা হয়নি, বরং বেবিচকের চেয়ারম্যানকেই এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত করা হয়েছে।

বিমান সচিব জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরও চারটি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। তাই নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন না করলে বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হবে এবং নতুন রুট চালু করাও কঠিন হবে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।